Thursday, October 8, 2026

কর্মই সকল প্রাণীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে

 কর্মই সকল প্রাণীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে

সুমনপাল ভিক্ষু

বাসেট্ঠ ও ভারদ্বাজ নামক দুই তরুণ ব্রাহ্মণ একবার তথাগত বুদ্ধকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: কীসের দ্বারা একজন ব্রাহ্মণ প্রকৃত ব্রাহ্মণ হয়ে ওঠেন? তার উত্তরে তথাগত বলেছিলেন: সাত প্রজন্মের বিশুদ্ধ বংশপরিচয় থাকলেই কেউ ব্রাহ্মণ হন না, আবার বংশপরিচয়ের কারণেই কেউ অব্রাহ্মণ হন না। কর্মের দ্বারাই একজন ব্রাহ্মণ হন; কর্মের দ্বারাই একজন অব্রাহ্মণ হন। কর্মের দ্বারাই কেউ কৃষক, কারিগর, বণিক, ভৃত্য, চোর, এমনকি হত্যাকারীও হন। কর্মের দ্বারাই কেউ পুরোহিত বা রাজা হন। কোনো কর্মের কার্যকারণ-ফল জেনে জ্ঞানী ব্যক্তি 'প্রতীত্যসমুৎপাদ' বা কার্যকারণ-শৃঙ্খলের পূর্ণ জ্ঞান লাভ করেন এবং সেই কর্মকে তার প্রকৃত রূপে দর্শন করেন! কর্মের দ্বারাই জাগতিক ঘটনাপ্রবাহ নির্ধারিত হয়, কর্মের দ্বারাই জগৎ ও মানবজীবন গতিশীল থাকে। প্রাণীরা তাদের নিজস্ব কর্ম বা আচরণের দ্বারাই আবদ্ধ, শর্তযুক্ত ও গঠিত হয়! আত্ম-সংযম, আত্ম-নিয়ন্ত্রণ এবং আর্য-জীবনযাপনের মতো অত্যন্ত বিশুদ্ধ আচরণের মাধ্যমেই একজন প্রকৃত ব্রাহ্মণ হয়ে ওঠেন। যিনি 'ত্রৈবিদ্যা' (তিন প্রকার বিশেষ জ্ঞান)-য় সমৃদ্ধ, যিনি প্রশান্ত এবং যার পুনর্জন্মের কারণসমূহ বা আসক্তি সমূলে বিনাশ হয়েছে—হে বাসেট্ঠ, প্রকৃত জ্ঞানীদের দৃষ্টিতে তিনিই ব্রহ্মা ও শক্রর (দেবরাজ ইন্দ্রের) ন্যায় পূজনীয়! তখন বাসেট্ঠ ও ভারদ্বাজ উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন: চমৎকার, হে পূজনীয় গৌতম! আমরা আজ থেকে পূজনীয় গৌতম, তাঁর ধর্ম এবং ভিক্ষু-সংঘকে আমাদের শরণ হিসেবে গ্রহণ করছি। পূজনীয় গৌতম যেন আমাদের আজীবন শরণাগত গৃহী-শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন। সুত্ত-নিপাত, গাথা ৬৫০-৬৫৬ (সম্পাদিত অংশ)।।

No comments:

Post a Comment