প্রাণীদের রক্ষা উপায়
সুমনপাল ভিক্ষু
সকল প্রাণীকে কীভাবে সর্বোত্তমভাবে রক্ষা করা যায়? পাঁচটি স্বর্ণালী নিয়ম:
নিজে হত্যা করবেন না এবং হত্যার প্রশংসাও করবেন না। বরং যেকোনো প্রাণনাশ থেকে বিরত থাকুন। পবিত্র অহিংসা ও নিষ্ঠুরতাহীনতার প্রশংসা করে অন্যদেরও হত্যা থেকে নিবৃত্ত করুন। প্রাণীজগতের জন্য এটিই শ্রেষ্ঠ উপহার: নির্যাতন ও সহিংস হত্যাকাণ্ড থেকে সুরক্ষা। হত্যার বেদনাদায়ক কর্মফল হলো স্বল্প আয়ু এবং নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক মৃত্যু! কোনো ক্ষতি করবেন না এবং ক্ষতির প্রশংসাও করবেন না—তা শারীরিক, মানসিক, বাচনিক বা কোনো যন্ত্রের মাধ্যমেই হোক না কেন। লাঠি, ছুরি ও সমস্ত অস্ত্র পরিত্যাগ করুন। এখনই সমস্ত সহিংসতা, বর্বরতা ও শত্রুতার অবসান ঘটান! করুণা ও শান্তির প্রশংসা করে সমস্ত আগ্রাসন দমন করুন। প্রাণীজগতের জন্য এটিই শ্রেষ্ঠ উপহার: আঘাত, ক্ষত ও আকস্মিক যন্ত্রণা থেকে সুরক্ষা। সহিংস আচরণের বেদনাদায়ক কর্মফল হলো দুরারোগ্য ব্যাধি, পঙ্গুত্ব এবং পরবর্তী জন্মে অঙ্গহানি। চুরি করবেন না এবং কোনো ধরনের চুরির প্রশংসাও করবেন না। স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়নি এমন কিছু গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। বিনয় ও সততার প্রশংসা করে অন্যদেরও চুরি থেকে নিবৃত্ত করুন। সম্পদের মালিকদের জন্য এটিই শ্রেষ্ঠ স্বস্তি: ক্ষতি, লোকসান এবং বিমার বাড়তি খরচ থেকে সুরক্ষা। চুরির বেদনাদায়ক কর্মফল হলো পরবর্তী বহু জন্মে সম্পদহানি, দারিদ্র্য, অভাব, অনটন, ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। যৌন নির্যাতন করবেন না এবং কোনো ধরণের নির্যাতনের প্রশংসাও করবেন না। অন্যের সঙ্গী এবং যারা বাগদত্তা বা অন্যের সুরক্ষাধীন, তাদের থেকে দূরে থাকুন। অন্যদেরও যেকোনো ধরণের যৌন নির্যাতন থেকে বিরত রাখুন। পিতা-মাতা বা প্রেমিকের জন্য এটিই শ্রেষ্ঠ উপহার: প্রতারণা, ব্যভিচার, ঈর্ষা ও যৌন নির্যাতন থেকে সুরক্ষা। নির্যাতন ও ব্যভিচারের বেদনাদায়ক কর্মফল হলো পরবর্তী জীবনে সমকামিতা, অস্বাভাবিকতা ও পঙ্গুত্ব। মিথ্যা বলবেন না এবং কোনো ধরণের মিথ্যার প্রশংসাও করবেন না। বরং সমস্ত অসত্য ও মিথ্যা বর্জন করুন এবং সততার প্রশংসা করে অন্যদেরও কেবল সত্য বলতে উৎসাহিত করুন। শ্রোতাদের জগতে এটিই শ্রেষ্ঠ অনুশীলন: সততা যা সমাজে পারস্পরিক আস্থার নিশ্চয়তা দেয়। মিথ্যার বেদনাদায়ক কর্মফল হলো পরবর্তী বহু জন্মে প্রতারিত হওয়া, অসম্মানিত হওয়া, নিচু অবস্থানে থাকা বা আরও খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া। মদ্যপান করবেন না এবং এমন কোনো নেশার প্রশংসাও করবেন না যা অবহেলা ও অসতর্কতা সৃষ্টি করে। বরং মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন এবং অন্যদেরও বিরত রাখুন। জীবজগতের মধ্যে এটিই আচরণের সর্বোত্তম সামাজিক রীতি, যা শালীনতা, মানসিক সুস্থতা ও সুচিন্তিত বিচারবুদ্ধি নিশ্চিত করে। মদ্যপানের ফলে ভবিষ্যতে যে কষ্টদায়ক কর্মফল ভোগ করতে হয়, তা হলো—মূর্খতা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, উন্মাদনা, বিস্মৃতি, দুর্বল স্মৃতিশক্তি এবং পরবর্তী জন্মে আরও শোচনীয় অবস্থা। এই পাঁচটি হলো মহান ও মৌলিক দান—যা খাঁটি, দীর্ঘস্থায়ী, ঐতিহ্যবাহী, প্রাচীন এবং শুরু থেকেই অকলুষিত; এগুলোর বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই এবং ভবিষ্যতেও কখনো থাকবে না; আর কোনো প্রকৃত জ্ঞানী সন্ন্যাসী, ভিক্ষু বা ধর্মগুরু কখনোই এগুলোর নিন্দা বা সমালোচনা করেন না।
No comments:
Post a Comment