বোধির ষষ্ঠ অঙ্গ সমাধি
সুমনপাল ভিক্ষু
‘সমাধি-সম্বোধি-অঙ্গ’ (Concentration Link to Awakening)-এর পুষ্টিসাধন!
ভগবান বুদ্ধ একবার বলেছিলেন:
হে ভিক্ষুগণ, এই শরীর যেমন আহারের দ্বারা পুষ্ট ও স্থিতিশীল থাকে এবং আহার ছাড়া টিকে থাকতে পারে না, ঠিক তেমনই ‘সমাধি-সম্বোধি-অঙ্গ’-ও আহারের দ্বারাই পুষ্ট ও স্থিতিশীল থাকে; আহার ছাড়া এগুলোর অস্তিত্ব বজায় থাকে না। হে ভিক্ষুগণ, ‘সমাধি-সম্বোধি-অঙ্গ’ যা এখনও উৎপন্ন হয়নি তার উৎপত্তির জন্য এবং যা উৎপন্ন হয়েছে তার পূর্ণতা বা পরিপক্বতা লাভের জন্য ‘আহার’ বা পুষ্টি কী? এর দুটি লক্ষণ বা নিমিত্ত রয়েছে: প্রশান্তি ও স্থিরতার লক্ষণ এবং বিক্ষিপ্ততা ও চঞ্চলতার অভাব বা একাগ্রতার লক্ষণ!
এগুলোর প্রতি বারবার যত্নসহকারে ও যুক্তিপূর্ণভাবে মনোযোগ দেওয়াই হলো সেই আহার, যা ‘সমাধি-সম্বোধি-অঙ্গ’-এর উৎপত্তিতে সহায়তা করে এবং ইতিমধ্যে উৎপন্ন ‘সমাধি-সম্বোধি-অঙ্গ’-কে ক্রমশ পূর্ণতার দিকে নিয়ে যায়। আর হে ভিক্ষুগণ, সেই ‘অনাহার’ বা পুষ্টির অভাব কী যা ‘সমাধি-সম্বোধি-অঙ্গ’-এর উৎপত্তিকে বাধাগ্রস্ত করে এবং উৎপন্ন ‘সমাধি-সম্বোধি-অঙ্গ’-কে বিকাশের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভে বাধা দেয়? সেই প্রশান্তি ও স্থিরতার লক্ষণ এবং বিক্ষিপ্ততা ও চঞ্চলতার অভাবের লক্ষণের প্রতি বারবার যত্নসহকারে ও যুক্তিপূর্ণভাবে মনোযোগ না দেওয়া; সেগুলোর কথা ঘন ঘন বা গভীরভাবে বিবেচনা না করাই হলো সেই ‘অনাহার’, যা ‘সমাধি-সম্বোধি-অঙ্গ’-এর উৎপত্তি রোধ করে এবং উৎপন্ন ‘সমাধি-সম্বোধি-অঙ্গ’-কে মানসিক অনুশীলন ও ধ্যানের মাধ্যমে ক্রমবিকাশ লাভ করে পূর্ণতা প্রাপ্তি থেকে বিরত রাখে।
No comments:
Post a Comment