পীতি বা আনন্দ বোধির অনুষঙ্গ
সুমনপাল ভিক্ষু
আনন্দ (পীতি) হলো বোধি বা জাগরণের একটি অনুষঙ্গ
থাইল্যান্ডের এক শিশু হাতির সমুদ্রসৈকতে প্রথম ভ্রমণ : উপভোগ করুন! বোধি-অঙ্গ হিসেবে আনন্দ বা 'পীতি-সম্বোজ্ঝঙ্গ'-এর বৈশিষ্ট্য হলো চিত্তকে পরিতৃপ্তিতে পূর্ণ করা
এবং এমন এক সন্তুষ্টির অনুভূতি জাগানো যা মনকে প্রফুল্ল করে তোলে।
এই আনন্দ-বোধি-অঙ্গটি মানসিক উল্লাস বা হর্ষ হিসেবে প্রকাশিত হয়,
যার তীব্রতা ক্রমান্বয়ে পাঁচটি স্তরে বৃদ্ধি পেতে পারে :
১। মৃদু আনন্দ (খুদ্দক-পীতি) – যা রোমাঞ্চের সৃষ্টি করে শরীরের লোম খাড়া করে দিতে পারে।
২। ক্ষণিক আনন্দ (খণিকা-পীতি) – যা বিভিন্ন মুহূর্তে বিদ্যুতের ঝলকানির মতো ক্ষণিকের জন্য দেখা দেয়।
৩। প্লাবনকারী আনন্দ (ওক্কন্তিকা-পীতি) – যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো বারবার শরীরের ওপর আছড়ে পড়ে।
৪। উড্ডয়নকারী আনন্দ (উব্বেন্গা-পীতি) – যা এতটাই প্রবল হতে পারে যে শরীরকে শূন্যে ভাসিয়ে তুলতে পারে।
৫। সর্বব্যাপী আনন্দ (ফরণা-পীতি) – যা জলে পরিপূর্ণ ও চুঁইয়ে পড়া ভারী স্পঞ্জের মতো সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বিসুদ্ধিমগ্গ ৪: ৯৪-৯।
বুদ্ধ একবার বলেছিলেন : কোন মানসিক আস্রব বা কলুষতাগুলো (āsava) অনুশীলনের মাধ্যমে জয় করা উচিত?
যখন কোনো ভিক্ষু সতর্ক ও যৌক্তিক মনোযোগের মাধ্যমে নির্জনতা, বৈরাগ্য ও নিরোধের ওপর ভিত্তি করে
এবং পরিশেষে সর্ব-ত্যাগ বা আসক্তি-মুক্তির লক্ষ্যে 'আনন্দ-বোধি-অঙ্গ' 'পীতি-সম্বোজ্ঝঙ্গ' বিকশিত করেন, তখন তাঁর মধ্যে কোনো মানসিক কলুষতা, কোনো মানসিক দহন বা কোনো অসন্তোষ আর কখনোই উৎপন্ন হতে পারে না। মধ্যম নিকায, ২য় সূত্র, ১ম খণ্ড, ১১।
যার মধ্যে উৎসাহপূর্ণ উদ্যম বা বীর্য জাগ্রত হয়েছে, তার মধ্যে জাগতিক নয় এমন এক আনন্দের উদয় ঘটে,
এবং ঠিক তখনই এই 'আনন্দ-বোধি-অঙ্গ'টি প্রকাশিত হয়। তিনি একে বিকশিত করেন এবং তাঁর ক্ষেত্রে এটি বিকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়। মধ্যম নিকায, ১১৮ সূত্র, ৩য় খণ্ড, ৮৫।
আহা, কী চমৎকার!
যিনি বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের প্রতি গভীর উপলব্ধির মাধ্যমে আস্থাশীল হন,
তিনি নির্বাণ নামক সেই মহৎ ও কল্যাণকর লক্ষ্যের প্রতি এক উৎসাহপূর্ণ বোধ লাভ করেন; এবং এভাবেই তিনি এই পরম ধর্মের সাথে যুক্ত ও একীভূত এক আনন্দ লাভ করেন!
যিনি আনন্দিত হন, তাঁর মধ্যে আনন্দের জন্ম হয়। আনন্দিত ব্যক্তির শরীর শান্ত হয়ে যায়। শান্ত শরীরের অধিকারী ব্যক্তি সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন! সুখী ব্যক্তির মন একাগ্র হয়ে ওঠে। আর একাগ্র মন বিষয়সমূহকে ঠিক যেমন- তেমনভাবেই দেখতে ও জানতে পারে। এর ফলে ঘৃণা ও মোহভঙ্গ ঘটে, যা পরবর্তীতে কোনো আসক্তি ছাড়াই মানসিক মুক্তি লাভের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার পথ প্রশস্ত করে। এভাবেই আনন্দ প্রকৃতপক্ষে বোধি বা জাগরণের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি উপাদান হয়ে ওঠে! মধ্যম নিকায, ১ম খণ্ড, ৩৭-৮, অঙ্গুত্তর নিকায, ৩য় খণ্ড, ২১-৩, দীঘ নিকায়, ৩য় খণ্ড, ২১-৩।
একটি ইতিবাচক চক্রের মাধ্যমে একে বৃদ্ধি করা: পুরোনো আনন্দ নতুন আনন্দকে পুষ্ট করে : নিজের অতীতের আনন্দের কথা স্মরণ করার মাধ্যমেই আনন্দের কারণকে পুষ্ট করা সম্ভব!
এখনই নিজে চেষ্টা করে দেখুন : শেষবার কখন হেসেছিলেন তা মনে করুন এবং অনুভব করুন কীভাবে আপনার বিস্মিত মুখে হাসি ফুটে উঠছে নিয়মিত এর অনুশীলন করুন :
যেন এর কোনো শেষ নেই, আনন্দের (পীতি) সেই উন্নত ও পরমানন্দদায়ক গুণ সম্পর্কে আরও কিছু অনুপ্রেরণা :
শারীরিক সুখ ও তার ঊর্ধ্বে, আনন্দের ঊর্ধ্বে, জাগতিক সীমার বাইরের আনন্দ, আনন্দকে পুষ্ট করা, সচেতন ও উন্নত আনন্দ, আনন্দ-উদযাপন, অতি-মানবিক হর্ষ
বোধি বা জাগরণের ৭টি অঙ্গ (সম্বোজ্ঝঙ্গ) প্রসঙ্গে।
No comments:
Post a Comment