প্রথম ধ্যানে বেদনা অনুভবের ক্ষমতা
সুমনপাল ভিক্ষু
প্রথম ধ্যানে বেদনা অনুভবের ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়ে যায়!
ভগবান বুদ্ধ একবার বলেছিলেন:
হে ভিক্ষুগণ, যখন কোনো ভিক্ষু একাগ্রচিত্তে, উদ্যমী ও সংকল্পবদ্ধ হয়ে সাধনায় রত থাকেন, তখন তাঁর মধ্যে বেদনা অনুভবের ক্ষমতা বা অনুভূতি জাগ্রত হতে পারে। তিনি তখন তা এভাবে অনুধাবন করেন: ‘আমার মধ্যে বেদনা অনুভবের ক্ষমতা বা অনুভূতি উৎপন্ন হয়েছে। এর একটি কারণ, একটি উৎস ও একটি শর্ত বা নিমিত্ত রয়েছে। কারণ, উৎস বা শর্ত ছাড়া এই বেদনা অনুভবের ক্ষমতা উৎপন্ন হওয়া অসম্ভব।’ এভাবেই তিনি বেদনা অনুভবের ক্ষমতাকে বোঝেন; তিনি সেই বেদনার কারণ ও উৎপত্তির উৎস বোঝেন; তিনি সেই বেদনার নিরোধ বা বিলুপ্তিও বোঝেন; এবং তিনি বোঝেন কখন সেই বেদনা কোনো অবশিষ্টাংশ ছাড়াই সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। হে ভিক্ষুগণ ও বন্ধুগণ, কোথায় সেই উৎপন্ন বেদনা কোনো অবশিষ্টাংশ ছাড়াই বিলুপ্ত হয়ে যায়? হে ভিক্ষুগণ, যখন কোনো সাধক জাগতিক আসক্তি ও কামবাসনা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে, অকুশল মানসিক অবস্থা থেকে নিজেকে রক্ষা করে ‘প্রথম ধ্যান’-এ (প্রথম ঝান) প্রবেশ করেন ও তাতে অবস্থান করেন—যে অবস্থাটি নির্জনতা থেকে জাত আনন্দ ও সুখে পরিপূর্ণ এবং যাতে রয়েছে একাগ্র চিত্তের সংকল্প ও অবিচ্ছিন্ন চিন্তন-প্রক্রিয়া—ঠিক তখনই
সেই উৎপন্ন বেদনা কোনো অবশিষ্টাংশ ছাড়াই বিলুপ্ত হয়ে যায়। ভিক্ষুগণ, এভাবেই একজন ভিক্ষু বেদনা অনুভবের ক্ষমতার নিরোধ বা বিলুপ্তি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন! তিনি তদনুসারেই নিজের মনকে পরিচালিত করেন।
অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ধ্যানীর প্রতি মন্তব্য: ধ্যানের সময় যদি আপনি এখনও পিঠে, হাঁটুতে বা শরীরের অন্য কোথাও কোনো শারীরিক বেদনা অনুভব করতে পারেন, তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, আপনার বর্তমান মানসিক অবস্থা সংজ্ঞাগতভাবে ‘প্রথম ধ্যান’-এর স্তরের নিচে রয়েছে।
No comments:
Post a Comment