Thursday, October 8, 2026

বুদ্ধ ও মালুঙ্ক্যপুত্ত কথোপকথন

 বুদ্ধ ও মালুঙ্ক্যপুত্ত কথোপকথন

সুমনপাল ভিক্ষু

একদিন মালুঙ্ক্যপুত্ত বুদ্ধের কাছে এসে বললেন, “আপনি আমাদের বলেননি জগৎ চিরন্তন কি না, আত্মা ও দেহ একই কি না, কিংবা মৃত্যুর পর আত্মার অস্তিত্ব থাকে কি না। আপনি যদি এই বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করতে পারেন, তবে আমি ভিক্ষু হয়েই থাকব, নতুবা আমি চলে যাব।”
বুদ্ধ উত্তর দিলেন: “তুমি যখন প্রথম আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলে, তখন কি আমি এই সমস্ত ব্যাখ্যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম? অথবা তুমি কি শর্ত দিয়েছিলে যে তোমাকে এগুলো জানতেই হবে?”

“না”, মালুঙ্ক্যপুত্ত স্বীকার করলেন।

“তাহলে আমার কথা শোনো। ধরো, একজন লোক তীরের আঘাতে আহত হলো এবং শল্যচিকিৎসক এসে তাকে বললেন, ‘কে তীরটি ছুঁড়েছে, কোন গাছ থেকে এটি এসেছে, কে এটি তৈরি করেছে এবং কী ধরণের ধনুক ব্যবহার করা হয়েছে, তা না জানা পর্যন্ত এই তীরটি বের করবে না’।” নিশ্চিতভাবেই লোকটি এই উত্তরগুলো জানার আগেই মারা যাবে। একইভাবে, তুমি যদি বলো যে আমি জগতের সমস্ত প্রশ্নের সমাধান না করা পর্যন্ত তুমি ভিক্ষু থাকবে না, তাহলে তোমার অতৃপ্ত অবস্থাতেই মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

“সত্যের অনুসারী হওয়া এই ধরণের কোনো উত্তরের উপর নির্ভর করে না।”  জগৎ শাশ্বত হোক বা নশ্বর, দুঃখ আছে, এবং আমি তা বোঝার পথ শিক্ষা দিই। আমার শিক্ষা মৃত্যুর পরে আমার অস্তিত্ব থাকবে কি থাকবে না তার উপর নির্ভর করে না, কারণ আমি ইহকালের দুঃখ নিয়েই ব্যক্ত। তোমাদের সকলকে আমি যা ব্যাখ্যা করার তা ব্যাখ্যা করেছি এবং যা দুঃখের অবসান ও সুখ লাভের জন্য প্রাসঙ্গিক নয় তা ব্যাখ্যা করিনি।
মজ্ঝিম নিকায়।

No comments:

Post a Comment