মনোসংযোগ বা একাগ্রতা হলো বোধি
সুমনপাল ভিক্ষু
ধ্রুপদী ভাষ্যসমূহ থেকে প্রাপ্ত মন্তব্য:
মনোসংযোগ বা একাগ্রতা হলো বোধি বা জাগরণের অন্যতম অঙ্গ ‘সমাধি-সম্বোজ্ঝঙ্গ’-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। যাবতীয় বিক্ষেপ, ব্যাঘাত, মনোযোগের বিচ্যুতি, অস্থিরতা এবং মানসিক দোলায়মানতা বা চঞ্চলতা দূর করাই হলো ‘সমাধি’ গুণের উদ্দেশ্য। গভীর অন্তর্দৃষ্টি বা সত্যকে ভেদ করে দেখার ক্ষমতাই হলো সমাধির বহিঃপ্রকাশ। এই স্থিরতা সত্য উপলব্ধির পথ উন্মোচন করে! যেকোনো ধরনের চেতনার মধ্যেই কিছুটা হলেও একাগ্রতা বা মনোযোগ বিদ্যমান থাকে। মনোযোগ নিবদ্ধ করার অনুশীলনের মাধ্যমে এই একাগ্রতাকে আরও উন্নত করা সম্ভব।
একাগ্রতা বা সমাধি বিকাশে সহায়ক আরও কিছু শর্ত হলো:
১: নিজের শরীর, আচরণ, ব্যক্তিগত সামগ্রী ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন রাখা।
২: প্রশান্তির লক্ষণ এবং অবিক্ষিপ্ত বা স্থির থাকার লক্ষণগুলো চিনতে পারার অভ্যাস গড়ে তোলা।
৩: উদ্যমী প্রচেষ্টার শক্তি এবং একাগ্রতার ক্ষমতার মধ্যে যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখা।
৪: প্রয়োজনে মনকে নিয়ন্ত্রণ, আবদ্ধ ও সংযত রাখা।
৫: প্রয়োজনে মনকে সচল করা, উদ্দীপিত করা ও সক্রিয় করে তোলা।
৬: উপযুক্ত সময়ে মনকে আনন্দিত, উৎসাহিত ও শিথিল বা স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করা।
৭: যথাযথ মুহূর্তে সমভাব বা নিরপেক্ষতার সাথে কেবল মনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা।
৮: অমনোযোগী, অস্থিরচিত্ত ও বিক্ষিপ্ত-মনস্ক মানুষদের সঙ্গ এড়িয়ে চলা।
৯: গভীর ধ্যানের (ঝান বা absorption) অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একাগ্রচিত্ত মানুষদের সাথে বন্ধুত্ব করা।
১০: গভীর ধ্যানাবস্থা (ঝান) ও বিমুক্তি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো বারবার পর্যালোচনা করা।
১১: মনকে একমুখী ও গভীর ধ্যানে নিবদ্ধ করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা!
চিন্তা-ভাবনা চলাকালীনও একাগ্রতা থাকে, আবার চিন্তাহীন অবস্থায়ও একাগ্রতা থাকতে পারে! মানসিক গভীর ধ্যান বা ‘ঝান’ (Jhāna) হলো উচ্চতর সত্তার এক অপূর্ব ও মহিমান্বিত অবস্থা!
উৎস (সম্পাদিত অংশবিশেষ):
বুদ্ধের সংগৃহীত উপদেশাবলি: সংযুক্ত নিকায়। গ্রন্থ [V: ৬৫-৬+১০২-৮] ৪৬: সংযোগ বা অঙ্গসমূহ। ২+৫১: বর্গ ও পুষ্টি/আহার, একাগ্রতার পুষ্টিসাধন।
No comments:
Post a Comment