অতিমানবিক শক্তির উপায় হিসেবে ‘অনুসন্ধান’
সুমনপাল ভিক্ষু
ভগবান বুদ্ধ একবার বলেছিলেন:
যখন কোনো ভিক্ষু ‘অনুসন্ধান’-এর মাধ্যমে শক্তি অর্জনের উপায়টি গড়ে তোলেন—যে অনুসন্ধান একাগ্রতা দ্বারা সমৃদ্ধ এবং প্রচেষ্টা ও চিন্তার দ্বারা এমনভাবে গঠিত যে তা না হয় অতিরিক্ত শিথিল, না হয় অতিরিক্ত টানটান; না হয় অভ্যন্তরীণভাবে সংকুচিত, না হয় বাহ্যিকভাবে বিক্ষিপ্ত—তখন তিনি সম্মুখ ও পশ্চাৎ, ঊর্ধ্ব ও অধঃ—সর্বত্রই সচেতন থেকে অবস্থান করেন; দিন ও রাত—উভয় সময়েই তিনি এমনটি করেন! তাই, উন্মুক্ত ও বাধাহীন চিত্ত নিয়ে তিনি এক উজ্জ্বল ও ভাস্বর মন গড়ে তোলেন, যা তার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ জ্যোতিতে উদ্ভাসিত, অতিরিক্ত শিথিল ‘অনুসন্ধান’ কী?
অযত্ন ও অসতর্কতা-মিশ্রিত অনুসন্ধানকেই বলা হয় অতিরিক্ত শিথিল অনুসন্ধান! অতিরিক্ত টানটান ‘অনুসন্ধান’ কী? অস্থির, তাড়াহুড়াপূর্ণ ও বিক্ষুব্ধ অনুসন্ধানকেই বলা হয় অতিরিক্ত টানটান অনুসন্ধান!
অভ্যন্তরীণভাবে সংকুচিত ‘অনুসন্ধান’ কী? আলস্যের বশবর্তী হয়ে যে অনুসন্ধান করা হয়, তাই হলো অভ্যন্তরীণভাবে সংকুচিত অনুসন্ধান!
বাহ্যিকভাবে বিক্ষিপ্ত ‘অনুসন্ধান’ কী? তৃষ্ণা ও তাড়না দ্বারা চালিত হয়ে পঞ্চ-ইন্দ্রিয়জ সুখের দিকে যে অনুসন্ধান ধাবিত হয়, তাকেই বলা হয় বাহ্যিকভাবে বিক্ষিপ্ত ও বিচ্যুত অনুসন্ধান!
কীভাবে সম্মুখ ও পশ্চাৎ—উভয়কেই অনুভব করে অবস্থান করা যায়?
সমস্ত ঘটনার সম্মুখ ও পশ্চাৎ—উভয় দিকের উপলব্ধিকে যখন ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে দেখা হয় এবং তার ফলে তা ভালোভাবে বোঝা, বিবেচনা করা ও জ্ঞানের মাধ্যমে জানা হয়...
এটাই হলো সেই অনুসন্ধান, যা সম্মুখ ও পশ্চাৎ—উভয়কেই জানে!
কীভাবে ‘যেমন নিচে, তেমন উপরে; যেমন উপরে, তেমন নিচে’—এভাবে দেখে অবস্থান করা যায়? একজন ব্যক্তি পায়ের পাতা থেকে শুরু করে মাথার চুল পর্যন্ত—অর্থাৎ চামড়ায় আবৃত এই শরীরটিকে—নানা ধরণের অশুচি বা অপবিত্র উপাদানে পূর্ণ হিসেবে পর্যবেক্ষণ করেন। এই শরীরে রয়েছে: মাথার চুল, শরীরের লোম, নখ, দাঁত, চামড়া, মাংস, শিরা-উপশিরা, হাড়, অস্থিমজ্জা, বৃক্ক (কিডনি), হৃদপিণ্ড, যকৃৎ, ফুসফুসের আবরণ (প্লুরা), প্লীহা, ফুসফুস, অন্ত্র, মেসেন্টারি (অন্ত্রের ঝিল্লি), পাকস্থলীর বমি, মল, পিত্ত, লসিকা, পুঁজ, রক্ত, ঘাম, চর্বি, অশ্রু, শ্লেষ্মা, লালা, সর্দি, অস্থিসন্ধির রস এবং মূত্র... এটিই সেই অনুসন্ধান প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জানা যায় যা নিচে আছে তা উপরেও আছে; এবং যা উপরে আছে, তা নিচেও আছে।
কীভাবে একজন ব্যক্তি দিনের বেলা যেমন থাকেন, রাতেও তেমনি থাকেন; এবং রাতে যেমন থাকেন, দিনেও তেমনি থাকেন? এখানে, রাতে একজন ভিক্ষু সেই একই কৌশল, গুণাবলী ও দিকগুলো ব্যবহার করে—যা তিনি দিনের বেলা অনুশীলন করেন—গভীর অনুসন্ধানের দ্বারা সমৃদ্ধ এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমে গঠিত 'শক্তির চারটি ধাপ' (Four Steps to Force) অনুশীলন করেন।
এভাবেই একজন ব্যক্তি দিনের বেলা যেমন থাকেন, রাতেও তেমনি থাকেন; এবং রাতে যেমন থাকেন, দিনেও তেমনি থাকেন! আর কীভাবে একজন ব্যক্তি এমন এক মন নিয়ে অবস্থান করেন যা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও অবাধ, এক উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় মন, যা তার নিজস্ব জ্যোতিতে পরিপূর্ণ...?
এখানে, বন্ধুরা, দিনের আলোর ধারণাকে ভালোভাবে মনোযোগের সাথে গ্রহণ করা হয় এবং দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে তা সুনিশ্চিত করা হয়। ঠিক এভাবেই একজন ব্যক্তি এমন এক মন নিয়ে অবস্থান করেন যা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও অবাধ, এক উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় মন, যা তার নিজস্ব জ্যোতিতে পরিপূর্ণ।
No comments:
Post a Comment