Thursday, October 8, 2026

ইচ্ছাকৃত কর্ম বা 'কর্মফল

 ইচ্ছাকৃত কর্ম বা 'কর্মফল

সুমনপাল ভিক্ষু

কোন ধরণের ইচ্ছাকৃত কর্ম বা 'কর্মফল' (Kamma) স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে? একবার এক শিক্ষার্থী বুদ্ধকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "হে গৌতম, কী কারণে বা কোন পরিস্থিতিতে কোনো কোনো মানুষ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন, আর অন্যরা প্রায়শই অসুস্থ থাকেন?" তখন তথাগত বুদ্ধ ব্যাখ্যা করলেন: "হে বন্ধু, কোনো পুরুষ বা নারী যদি হাত, পাথর, লাঠি, অন্য কোনো সরঞ্জাম, অস্ত্র বা ছুরি দিয়ে কোনো প্রাণীকে আঘাত করার অভ্যাস গড়ে তোলেন—তবে এমন অশুভ কর্মের ইচ্ছা ও আচরণের ফলে, মৃত্যুর পর শরীর ধ্বংস হলে তিনি কোনো কষ্টদায়ক অবস্থা, যন্ত্রণাদায়ক গন্তব্য বা নরকে পুনর্জন্ম লাভ করেন। কিন্তু যদি মৃত্যুর ঠিক পরে তিনি কোনো ভয়াবহ বা দুর্গতিভূমি তুল্য স্থানে পুনর্জন্ম না নিয়ে পুনরায় মানবলোকে ফিরে আসেন, তবে তিনি যেখানেই জন্মগ্রহণ করুন না কেন—তিনি দুর্বল, ক্ষীণকায়, ভঙ্গুর স্বাস্থ্যের অধিকারী এবং প্রায়শই অসুস্থ থাকেন! হে বন্ধু, হাত, পাথর, লাঠি, অন্য কোনো সরঞ্জাম, অস্ত্র বা ছুরি দিয়ে প্রাণীদের আঘাত করাই হলো সেই কর্ম যা ভবিষ্যতে রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়! পক্ষান্তরে, হে বন্ধু, কোনো পুরুষ বা নারী যদি হাত, পাথর, লাঠি, অন্য কোনো সরঞ্জাম, অস্ত্র বা ছুরি দিয়ে কোনো প্রাণীকে আঘাত করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন এবং কেবল এমন ভালো ও অহিংস কর্মই সম্পাদন করেন—তবে মৃত্যুর ঠিক পরে তিনি কোনো আনন্দদায়ক ও সুখময় গন্তব্যে, এমনকি সুগতিলোকে পুনর্জন্ম লাভ করেন! আর যদি মৃত্যুর পর তিনি কোনো সুখময় গন্তব্য বা সুগতিলোকে পুনর্জন্ম না নিয়ে পুনরায় মানবলোকে ফিরে আসেন, তবে তিনি যেখানেই জন্মগ্রহণ করুন না কেন—তিনি হন শক্তিশালী, প্রাণবন্ত ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী! হে বন্ধু, সুস্বাস্থ্য লাভের উপায়টি ঠিক এমনই—অর্থাৎ হাত, পাথর, লাঠি, কোনো সরঞ্জাম, ছুরি বা অস্ত্র—যাই হোক না কেন, কোনো প্রাণীকে আঘাত করা, জখম করা বা ক্ষতি করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা।"
উৎস: বুদ্ধের মধ্যম দৈর্ঘ্যের উপদেশমালা (Majjhima Nikaya): কর্ম বিষয়ক সংক্ষিপ্ত উপদেশ (MN 135) — কর্মফল ও স্বাস্থ্য।

No comments:

Post a Comment