Monday, February 2, 2026

ড. রাষ্ট্রপাল মহাথের সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য

 

সুমনপাল ভিক্ষু

আবির্ভাব : অবিভক্ত বাংলার চট্টগ্রামের রাউজান থানার অন্তর্গত ফতেনগর গ্রামে প্রখ্যাত সমাজ নেতা শ্রী অর্জুন বড়ুয়ার ঔরসে এবং শ্রীমতী কৌশল্যাময়ী বড়ুয়ার গর্ভে ১৯৩০ সালের ২৫ এপ্রিল সংঘরাজ ড. রাষ্ট্রপাল মহাথের জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাল্য নাম ছিল সাতকড়ি বড়ুয়া। আট ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মাতা পিতার চতুর্থ সন্তান। শৈশব কালে তিনি মাতৃহারা হলে তাঁদের লালন পালনের উদ্দেশ্যে পিতা শ্রী অর্জুন চন্দ্র বড়ুয়া পুনরায় শ্রীমতী ফুল কুমারী বড়ুয়ার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাই মাতৃস্নেহ থেকে তিনি শৈশব কাল থেকেই বঞ্চিত ছিলেন। তবে তাঁর ধর্মশীলা ঠাকুর মা শ্রীমতী চিন্তামনি বড়ুয়া নাতি সাতকড়ি বড়ুয়াকে অপত্য স্নেহে লালন পালন করায় তাঁর জীবনে ঠাকুরমার ধর্মীয় প্রভাব বেশী করে প্রভাবিত করেছে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, চারুবালা বড়ুয়া যিনি বুদ্ধগয়ার আন্তর্জাতিক সাধনা কেন্দ্রের উন্নতির লক্ষ্যে কয়েক দশক অক্লান্তভাবে নিঃস্বার্থ সেবা করেছেন, তিনি ছিলেন তাঁর বড় বোন এবং চট্টগ্রামে অবস্থানকারী আন্তর্জাতিক স্তরে বৌদ্ধ নেতা শ্রী হেমেন্দ্র লাল বড়ুয়া তাঁরই বড় ভাই।

শিক্ষা : শৈশব কালে বিহার কেন্দ্রিক গ্রাম্য পাঠশালাতেই তাঁর হাতে খড়ি হয়। তারপরে চট্টগ্রাম শহরের জে. এম. সেন ইনস্টিটিউশনে এবং কানুনগো পাড়া স্যার আশুতোষ কলেজ। সেখান থেকে ১৯৬০ সালে, সরাসরি প্রাচ্যের খ্যাতনামা বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যাপীঠ ভারতের নবনালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনের পর পালি ত্রিপিটক শাস্ত্রে দেবতার স্থান শীর্ষক বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করে সুবিখ্যাত মগধ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি. এইচ. ডি. বা ডক্টরেট ডিগ্রী উপাধিতে ভূষিত হন। পুনরায় বৌদ্ধ শাস্ত্রে মনস্তাত্ত্বিক দিক বিষয়ে ডি. লিটের জন্য গবেষণা করার সময় তিনি ধ্যান সাধনার প্রতি সবিশেষ আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। তখন তিনি গবেষণা কর্ম পরিত্যাগ করে প্রখ্যাত বিদর্শনাচার্য অনাগরিক মুনীন্দ্রজী, বিদর্শনাচার্যা ননীবালা বড়ুয়া (দীপা-মা), বিদর্শনাচার্য সত্য নারায়ন গোয়েঙ্কা, বিশ্ববিশ্রুত বিদর্শনাচার্য ব্রহ্মদেশের ভদন্ত পূজ্য উ. শোভনা (মহাসী সেয়াড), উ. পণ্ডিতা, উ. সুন্দরা প্রমূখ ছয়জন বিদর্শন শিক্ষকের নিকট শমথ ও বিদর্শন ভাবনায় আত্মনিয়োগ করে পারঙ্গমতা লাভ করেন, বলতে দ্বিধা নেই, পূজনীয় মহাসী ছেয়াড এবং দীপা-মা দ্বারা প্রদত্ত বিদর্শন বিষয়ক শিক্ষা তাঁকে অধিকতর প্রভাবিত করেছে।

শৈশব কাল থেকেই তিনি লেখাপড়ায় মনোযোগী ছিলেন। ভাল ছাত্ররূপেও তাঁর খ্যাতি ছিল। ফুটবল খেলায়ও তাঁর বিশেষ আকর্ষণ ছিল। তিনি যখন কলেজে পড়ছিলেন তখনই তিনি গৃহস্থ জীবন ত্যাগ করে ১৯৫৩ সালে ভিক্ষুত্ব বরণ করে ভদন্ত রাষ্ট্রপাল ভিক্ষু নামে পরিচিত হন। সেদিনের রাষ্ট্রপাল ভিক্ষুই স্বীয় ধ্যান ভাবনায় এবং আপন কৃতকর্মের প্রভাবে বিশ্ব নন্দিত মহামান্য সংঘরাজ ড. রাষ্ট্রপাল মহাথের।

গৃহত্যাগ : পৃথিবীতে যা কিছু সংগঠিত হচ্ছে তার সবকিছুর মূলে রয়েছে কার্য কারণ নীতি বা প্রতীত্য সমুৎপাদ তত্ত্ব।  মহামান্য সংঘরাজ ড. রাষ্ট্রপালের জীবনও সে একই নীতিতে নিয়ন্ত্রিত। শৈশব কাল থেকে ঠাকুরমার সঙ্গে পূজা-বন্দনা, বিহারে যাওয়া, অষ্টশীল পালন, ধর্ম শ্রবণ প্রভৃতি করতে গিয়ে তিনি স্বভাবতই ধর্মীয় ভাবাদর্শে আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলেন। সে বংশে তিনি জন্ম গ্রহণ করেছিলেন সে বংশেই দু'জন যথাক্রমে ৬ষ্ঠ সংঘরাজ ধর্মানন্দ মহাস্থবির এবং সপ্তম সংঘরাজ অভয়তিষ্য মহাস্থবিরও জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। অলক্ষ্যে এ দু'জন মহামনীষীর জীবনাদর্শ ও সমাধিচর্চা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। পূর্বেই উল্লেখ করেছি, ১৯৫৩ সালের ১৯ মে তিনি প্রখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত পূজনীয় প্রজ্ঞানন্দ মহাস্থবিরের সান্নিধ্যে তেকোটা-মুকুট নাইট গ্রামের সংযোগস্থলে অবস্থিত বৌদ্ধ সেবাসদনে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করে কয়েকদিন পরে ২৫ মে একই গুরুর উপাধ্যায়ত্বে বৈদ্যপাড়া শাক্যমুনি বিহারের সীমায় উপসম্পদা গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি এক বর্ষাবাস করে সেবাসদন ও করলডেঙ্গা বিহারে অবস্থান করে পরবর্তী কয়েক বর্ষাবাস তেকোটা সদ্ধর্ম বিকাশ বিহারে বর্ষা যাপন করেন। তাঁর উপসম্পদার দায়ক দায়িকা ছিলেন বৈদ্যপাড়া গ্রামের স্বনামধন্য উপাসক উপাসিকা শ্রী রবীন্দ্রনাথ বড়ুয়া ও শ্রীমতী চারুশীলা বড়ুয়া।

সংস্থাপক : এ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন স্থানে নানা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে অনন্য প্রতিভার অধিকারী হয়েছেন। সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান গঠনে তিনি অত্যন্ত নিপুণ হস্তের অধিকারী। ভারতে আসার পর সর্বপ্রথমে তিনি স্থাপন করেন শিলিগুড়িতে বুদ্ধভারতী বিহার। বুদ্ধ-ভারতী স্কুল প্রতিষ্ঠায়ও তাঁর অবদান অগ্রগণ্য। অতঃপর প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৭০ সালের ২৯ জানুয়ারী বিশ্ব বৌদ্ধদের পীঠস্থান বুদ্ধগয়ায় আন্তর্জাতিক সাধনা কেন্দ্র। তথা অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ধ্যানার্থীদের ও তীর্থ যাত্রীদের থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থার জন্য বিশাল বিশাল ভবন সমূহ ছাড়াও প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রজ্ঞানন্দ অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, তংপুলু হেলথ ইউনিট প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। তিনি বার্নপুর বৌদ্ধ সমিতি ভারতীয় সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা প্রভৃতিরও প্রতিষ্ঠাতা। ভারতীয় বৌদ্ধদের প্রতিনিধিত্বমূলক বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান বুদ্ধিষ্ট কাউন্সিল তথা ভারতীয় বৌদ্ধ পরিষদের তিনি দীর্ঘদিন থেকে সাধারণ সম্পাদকের পদে বৃত আছেন। শতাব্দী প্রাচীন মহাবোধি সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার তিনি প্রাক্তন সভাপতি।

ধর্ম প্রবক্তা ও গ্রন্থ রচনা : সংঘরাজ ড. রাষ্ট্রপাল মহাথের অনর্গল গভীর তত্ত্বমূলক ধর্মদেশনার কোন তুলনা হয় না। ইহা এক বিরল গুণ। ১৮ ঘন্টা ধর্ম ভাষণের সময় তিনি শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন। সুলেখক ও গ্রন্থকার রূপেও তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিদ্বৎ সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় দেড় শতাধিক প্রবন্ধ ও চিঠিপত্র নানা পত্র পত্রিকায় ও সাময়িকীতে প্রকাশ করেছেন। তাঁর রচিত ১৬টি গ্রন্থের মধ্যে কয়েকটি পৃথিবীর নানা ভাষায অনুদিত হয়েছে। নিম্নে তাঁর রচিত গ্রন্থাবলীর নাম প্রদত্ত হল- (১) এন এক্সপোজিশন অফ কর্ম এণ্ড রিবার্থ, (২) দি গ্লোরি অফ বুদ্ধগয়া (৩) নালন্দা এণ্ড রাজগীর (৪) ক্ষুদ্রক শিক্ষা (পালি) (৫) দি ফাইভ ভিসনস এণ্ড বেকনিংস অফ ফিউচার লাইফ (৬) পীস থু বিপস্সনা মেডিটেশন (৭) দি কনসেপশন অফ গডস্ ইন পালি ত্রিপিটকস (৮) পালি ষ্টাডিস ইন বেঙ্গল, (৯) বিপাস্সনাচারিয় ননীবালা বড়ুয়া (দীপা-মা) (১০) এ গাইড টু দি মাইণ্ড পিউরিফিকেশন (বিপাস্সনা) (১১) দি বুদ্ধ ওয়াজনাইদাং এ গড নর এন ইনকারনেশন (অবতার), (১২) মাতার পিতার প্রতি ছেলে মেয়েদের কর্তব্য এবং ছেলে মেয়েদের প্রতি মাতা-পিতার কর্তব্য (১৩) পরহিত ব্রতী শ্রী মিলন কান্তি চৌধুরী (১৪) বার বেশী না তের বেশী (১৫) দি ভিশন এণ্ড রাইটিংস অফ ভেনারেবল ড. রাষ্ট্রপাল মহাথের (১৬) মঙ্গল সুব্বার সংক্ষিপ্ত জীবন কথা। 

বিদর্শন শিক্ষা গুরু : ভাল শিক্ষা গুরু হতে হলে ভাল ছাত্র হওয়া প্রয়োজন। এরকম একটি প্রবাদ বাক্য দেখা যায়। সংঘরাজ ভদন্ত ড. রাষ্ট্রপাল মহাথের ছাত্রজীবন সুখ্যাতির অধিকারী হওয়ার সুবাদে তিনি স্বাভাবিক ভাবেই দক্ষ শিক্ষা গুরু হবেন এটাই হওয়া স্বাভাবিক। বিদর্শন সাধনা ভাবনাকে তাঁর জীবনের আদর্শ রূপে গ্রহণ করবার জন্য বিদর্শন শিক্ষায় পারঙ্গম হতে তিনি ছয়জন প্রখ্যাত বিদর্শন আচার্যের নিকট নিবিষ্টভাবে বিদর্শন ভাবনা করেছিলেন, তা পূর্বেই বলা হয়েছে। তিনি সাধনায় পারঙ্গমতা অর্জন করার কারণে প্রায়ই বলে থাকেন, ধ্যান ছাড়া জ্ঞান হয় না। বিদর্শন ধ্যান ছাড়া বুদ্ধ ও বৌদ্ধধর্মের সারতত্ত্ব জানবার জন্য কোন রাস্তা নেই। দুঃখ মুক্তির একমাত্র রাস্তা বিদর্শন। অষ্ট মশলা যুক্ত আর্য অষ্টাঙ্গিক মাগে আরোহণ ছাড়া নির্বাণ লাভ কোনমতেই সম্ভবপর নয় বলে তিনি প্রায়ই মন্তব্য করেন। তিনি বলতেন 'সতি সব্বত্থ সাধিকা' এখানে স্মৃতি অর্থে বিদর্শনরূপ সম্যকদর্শন বা সত্য দর্শনকেই বোঝান হয়েছে। বিদর্শন বা প্রকৃষ্ট দর্শনের মাধ্যমে সরকিছু অর্জন সম্ভবপর। নিবিষ্টভাবে বিদর্শন সাধনা করবার হেতু স্বরূপ পুজা সংঘরাজ মহোদয় এ জীবনে মৃত্যুর সুখে পড়েও দুর্জয় পরাক্রমের দ্বারা সকল প্রতিকূল অবস্থা থেকে নিজেকে বারবার বিমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এরকম বহু ঘটনা তিনি প্রায়ই বলতেন। সারা পৃথিবীর সাধক-সাধিকা যাঁরা তাঁর সান্নিধ্যে বিদর্শন ভাবনা করেছেন তাঁরা ভদন্ত মহোদয়ের শিক্ষার গুণে কি পরিমিত কল্যাণ সাধনে নিজেদের জীবনকে ধন্য করেছেন, তার পরিমাণ করা সহজ সাধ্য নয়। তিনি একজন অনন্য সাধারণ বিদর্শনাচার্য রূপে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। অন্যান্য গুরুর নিকট শিক্ষা প্রাপ্ত সাধক সাধিকা ভদন্ত মহোদয়ের সান্নিধ্যে ধ্যান করে পরম তৃপ্তি লাভ করেন বলে তাঁরাই মন্তব্য করে থাকেন। এদিক দিয়ে শিক্ষা গুরু রূপে তাঁর জীবন স্বার্থক।

কীর্তি গৌরব : মহামান্য সংঘরাজ ভদন্ত ড. রাষ্ট্রপাল মহাথের প্রথম বাঙ্গালী বৌদ্ধ ভিক্ষু যিনি দর্শন শাস্ত্রে পি. এইচ. ডি. ডিগ্রি লাভ করে আমাদের গৌরবান্বিত করেছেন। তিনি বিদর্শন সাধনা ভাবনা করে কেবল নিজেকে ধন্য করেননি, বিদর্শনাচার্যরূপে পরিণত হয়ে বিশ্বের মানব সমাজের হিত সাধনে নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে বিশ্বের মধ্যে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন।

পরম তীর্থ বুদ্ধগয়ায় পূর্বে বাঙ্গালী তথা ভারতীয়দের কোন ধর্মশালা ছিল না। নিজ মাতৃভূমিতেই যেন পরবাসী। তিনি এ সত্য উপলব্ধি করতে পেরে আমাদের আশ্রয় দানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন বুদ্ধগয়ায় আন্তর্জাতিক সাধনা কেন্দ্র।

সম্মাননা : তিনি সত্যের একনিষ্ট অনুশীলনকারীরূপে সুনাম-সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ায় তিনি বহুবিধ সম্মাননার অধিকারী হয়েছেন। যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন সেগুলো হল-(১) বুদ্ধগয়া টেম্পল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য একদশকাধিককাল পর্যন্ত অলংকৃত করেছিলেন। কমিটির সেক্রেটারী এবং চেয়ারম্যান গয়া ডিস্ট্রিক্ট মেজিস্ট্রেটের অবিবেচক সুলভ কার্যাবলী ও টেম্পল তহবিলের অবৈধ ব্যয়ের প্রতিবাদ স্বরূপ উক্তপদ থেকে পদত্যাগ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। (২) ড. বি. আর আম্বেদকর সেন্টিনারী কমিটি, ভারত সরকার (১৯৯১-৯২) এর সদস্যপদ। (৩) এক্সপার্ট এডভাইজারী বোর্ড ফর দি সেন্টাল স্কীম অফ ফিনান্সিয়াল এসিসটেন্ট্যান্স ফর দি ডেভেলপমেন্ট অফ বুড্ডিষ্ট টিবেটান অরগনাইজেশনের সদস্য পদ (৪) ভারত সরকারের রিলিজিয়স হারমনি গ্রুপ বাই দি ন্যাশনাল কমিশন ফর দি মাইনরিটিস এর সদস্য (৫) এডভাইজার তংপুলু কাবায়ে মনষ্টারি সানফ্রান্সিসকো ইউ.এস.এ (৬) সাধারণ সম্পাদক দি বুড্ডিষ্ট সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া, নাগপুর মহারাষ্ট্র, (৭) প্রধান উপদেষ্টা, অল ইণ্ডিয়া বুড্ডিষ্ট মিশন এবং (৮) বর্তমানে মহামান্য সংঘরাজ, ভারতীয় সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা, বুদ্ধগয়া প্রভৃতি ছাড়াও আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিষিক্ত আছেন। (১০). বার্মা সরকার কর্তৃক গৌরব জনক উপাধি অগ্রমহাসদ্ধর্মজ্যোতিকধ্বজ অভিধা লাভ। মহামান্য সংঘরাজ ভারত-বাংলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলি ছাড়াও, ওমান, আবুধাবী, জাপান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, সাউথ কোরিয়া, মায়ানমার, থাইল্যাণ্ড, সিঙ্গাপুর, ইউ. এস. এ প্রভৃতি দেশে ধর্ম ও ভারতীয় সংস্কৃতি প্রচার প্রসারে পরিভ্রমণ করেছেন। মহামান্য সংঘরাজ ভদন্ত ড. রাষ্ট্রপাল মহাথের একজন খুব সম্মানিত পণ্ডিতদের অন্যতম। তিনি মাতৃভাষা ছাড়াও ইংরেজী, হিন্দি ও পালি ভাষায় অভিজ্ঞ। ভারতীয় নাগরিক রূপে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও অবিভক্ত ভারতের জন্মভূমি চট্টগ্রামের প্রতি তাঁর স্বাভাবিক আকৰ্ষণ ছিল। 

সংঘরাজ ড. মহাথের সদ্ধর্মে নিবেদিত একটি মহান জীবনাদর্শ। সংক্ষেপে বলতে গেলে তিনি ঐহ্যিক ও পরমার্থিক সম্বন্বয় সাধনের মূর্ত প্রতীক। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি খুবই স্বচ্ছ ও বলিষ্ট। তিনি সহজ সরল জীবন যাপনে আগ্রহশীল। অপরের দুঃখ নিরসনে তাঁর প্রচেষ্টা ও তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টার কোন উপমা হয় না। সদ্ধর্মের প্রতি বিশেষ করে বিদর্শন সাধনা-ভাবনার প্রতি তাঁর অনুরাগের বিষয় অপ্রমেয়।

No comments:

Post a Comment