চার আর্য সত্য হলো বৌদ্ধধর্মের মূল ভিত্তি:
সুমনপাল ভিক্ষু
১: এটাই দুঃখ! দুঃখ তিন প্রকার:
ক: স্পষ্ট দুঃখ, যা হলো যেকোনো শারীরিক ব্যথা এবং যেকোনো মানসিক কষ্ট।
খ: পরিবর্তনের কারণে দুঃখের মধ্যে আনন্দদায়ক অনুভূতিও অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটিও যখন অনিবার্যভাবে পরিবর্তিত হয়, ম্লান হয়ে যায় এবং বিলীন হয়ে যায়, তখন বেশ হতাশাজনক হয়ে ওঠে।
গ: গঠনজনিত দুঃখ হলো সেই সবকিছু যা শর্তাধীন, যেহেতু এই সবকিছুই পরে অনিবার্যভাবে ভেঙে পড়বে। এর মধ্যে এমন যেকোনো বস্তুও অন্তর্ভুক্ত, যা একটি নিরপেক্ষ অনুভূতি তৈরি করে। এই প্রথম আর্য সত্য, যা নির্দেশ করে যে সমস্ত জাগতিক জিনিস চূড়ান্তভাবে দুঃখ, তা সব দিক থেকে সম্পূর্ণরূপে বুঝতে হবে...।
২: তৃষ্ণাই দুঃখের কারণ! তৃষ্ণা তিন প্রকার:
ক: রূপ, শব্দ, গন্ধ, স্বাদ, স্পর্শ এবং মানসিক অবস্থার জন্য তৃষ্ণা।
খ: কিছু হওয়ার জন্য তৃষ্ণা। (যেমন: আমি যেন ধনী, আকর্ষণীয়, তরুণ, বিখ্যাত ইত্যাদি হই।)
গ: কিছু না হওয়ার জন্য তৃষ্ণা (যেমন: আমি যেন অসুস্থ, বৃদ্ধ বা মৃত না হই!)
দুঃখের কারণ সম্পর্কিত এই দ্বিতীয় আর্য সত্যকে নির্মূল করতে হবে...।
৩: তাই তৃষ্ণার অনুপস্থিতিই দুঃখের অবসান!
ক: কোনো ইন্দ্রিয় উদ্দীপনা বা কোনো ধরনের সংস্পর্শের জন্য তৃষ্ণা না করা...
খ: ভবিষ্যতে এই বা সেই রূপে কোনো ধরনের পুনর্জন্মের জন্য তৃষ্ণা না করা...
গ: কোনো কিছু না হওয়ার জন্য তৃষ্ণা না করা, বরং অনিবার্যভাবে আসা সমস্ত মন্দকে গ্রহণ করা...। দুঃখের অবসান সম্পর্কিত এই তৃতীয় আর্য সত্যকে অর্জন করতে হবে!
৪: আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গই দুঃখ অবসানের পদ্ধতি! সমস্ত দুঃখের অবসান ঘটানোর জন্য কোন আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গকে বিকশিত করতে হবে?
১: সম্যক দৃষ্টি (sammā-diṭṭhi)
২: সম্যক সংকল্প (sammā-saṅkappa)
৩: সম্যক বাক্য (sammā-vācā)
৪: সম্যক কর্ম (sammā-kammanta)
৫: সম্যক জীবিকা (sammā-ājīva)
৬: সম্যক প্রচেষ্টা (sammā-vāyāma)
৭: সম্যক স্মৃতি (sammā-sati)
৮: সম্যক সমাধি (sammā-samādhi)
দুঃখ অবসানের পথের এই চতুর্থ আর্য সত্যটি বিকশিত করতে হবে!
No comments:
Post a Comment