Monday, February 16, 2026

 এক অস্থির প্রজন্ম তৈরি করছি আমরা তৈরি হচ্ছে। এই প্রজন্মের স্বাতন্ত্র্যদায়ক কোন লক্ষ্য নেই। এদের আদর্শিক কোন গৌরবাকাঙ্ক্ষা নেই। নিষ্কলুষ কোন মিশন নেই। এরা বই পড়ে না, খবরের কাগজ পড়ে না। বহিরঙ্গন খেলাধুলাও এদের অনীহা। এরা রৌদ্রে হাঁটতে পছন্দ করে না। বৃষ্টিতে ভিজতে চায় না। কাদামাটি, ঘাস, লতাপাতায় এদের এলারজি বা অতিপ্রতিক্রিয়া। এরা আধা কিলোমিটার গন্তব্যে যেতে আধা ঘণ্টা রিক্সার জন্য অপেক্ষা করে। এরা অস্থির, প্রচণ্ড রকম অস্থির এক প্রজন্ম। এরা অপরিচিত বয়জ্যেষ্ঠদের সম্মান দেবে না, পাশ কাটিয়ে হনহন করে চলে যাবে। অথবা গা ঘেঁষে পা পাড়া দিয়ে চলে যাবে। দুঃখপ্রকাশ বা সরি বলার প্রবৃত্তি এদের মধ্যে নেই। এরা অনর্থক তর্ক জুড়ে দেবে। না পাবেন বিনয়ী ভঙ্গী, না পাবেন কৃতজ্ঞতাবোধ। এদের উদ্ধত আচরণ, সদম্ভ চলাফেরায় আপনি ভয়ে কুঁকড়ে যাবেন। সংযত হওয়ার উপদেশ দিতে চাইলেই বিপদ নাজেহাল হওয়ার সম্ভাবনা অধিক। আপনি সর্বসাধারণ যাত্রীবাহী গাড়িতে  চড়ছেন দেখবেন খালি পীঠিকা বা বসার জায়গা পেতে সবচেয়ে বয়ঃকনিষ্ঠ ছেলেটা বেশি প্রতিযোগিতা করবে আপনাকে ধাক্কা দিয়ে সটান বসে পড়বে তার বয়সের দ্বিগুণ এই আপনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া তেমন কিছু করার থাকে না, বলছিলাম; এই প্রজন্মের কথা সবচেয়ে ভয়াবহ অনাচারের কথা যে, সভা সমিতিতে এই প্রজন্মের দাঁড়িয়ে থাকার কথা, সেই আসরে বা সভায় তারা নিজের জন্য চেয়ার খোঁজ করে যেখানে চুপ থাকার কথা, সেখানে জ্ঞান দিতে চেষ্টা করে। সারা রাত ধরে চলমান অবস্থায় বা অনলাইনে  থাকে, সারা সকাল ঘুমায় এরা সূর্যোদয় দেখে না, সূর্যাস্ত দেখে না সূর্যোদয়ে বিছানায় থাকে, সূর্যাস্তে মুঠোফোন বা মোবাইল থাকে। এরা ফাস্টফুডে বা ঝটপট আসক্ত, এরা বহিরঙ্গন খেলা অপছন্দ করে, এরা অন্তরঙ্গনে স্বস্তি পায়। নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে মূলত অনলাইন বা চলমান অবস্থার গেম বা অনুসন্ধিত বস্তুত  তাদের প্রথম অগ্রাধিকার। এরা ইতিহাস পড়ে না, সাহিত্য বুঝে না। এরা নজরুল চিনে না, রবীন্দ্রনাথ চিনে না, নেতাজী সুভাষ চেনে না, শরৎচন্দ্র চেনে না, ঠাকুরমার ঝুলি পড়ে না, শেখ সাদী, রুমি বহু অচেনা প্রসঙ্গ। এরা বই বুঝে না, বই পড়ে না, বই কিনে না। এরা সব কিছুতেই অপটু বা নন স্কিলড, এরা হাঁটতে পারে না, দৌড়াতে পারে না। সাগর পাড়ি দেওয়ার সেই দুঃসাহসিকতা নেই। পাহাড় কেটে পথ তৈরি করার সেই অদম্য মনোবল নেই। এদের উচ্ছ্বাস নেই, আবেগ নেই, সৎ সাহস নেই। এদের স্কিল একটাই স্মার্ট ফোন দ্রুত স্ক্রল বা সর্বানো করতে পারা। এদের না আছে মূল্যবোধ, না আছে শ্রদ্ধাবোধ, না আছে শৃঙ্খলাবোধ। কখন চলতে হবে, কখন থামতে হবে। কখন বলতে হবে, কখন শুনতে হবে এরা জানে না। এই সব কিছুর জন্য আমি, আমরা, আমাদের উপর কিছু দায় বর্তায়, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রজন্মকে যথাযথ ও গঠনমূলক করে প্রতিষ্ঠা দিতে, আগে নিজেদের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পর্যালোচনা করা অপরিহার্য।

No comments:

Post a Comment