বুদ্ধ, ধম্ম ও সংঘ—এই তিন রত্ন
সুমনপাল ভিক্ষু
পূজনীয়, বরণীয় এবং স্বয়ং-সম্বুদ্ধ হলেন বুদ্ধ! জ্ঞান ও আচরণে পূর্ণাঙ্গ, সর্বতোভাবে উত্তীর্ণ, সকল বিষয়ে পারদর্শী, সকল জগতের জ্ঞাতা,
যাদের বশ করা সম্ভব তাদের মধ্যে অদ্বিতীয় প্রশিক্ষক; দেবতা ও মানুষ—উভয়েরই শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক; ধন্য, মহিমান্বিত, জাগ্রত এবং আলোকিত হলেন বুদ্ধ!
এই বুদ্ধ-ধম্ম (ধর্ম) নিখুঁতভাবে প্রণীত; যা এই মুহূর্তেই এখানে প্রত্যক্ষযোগ্য, তাৎক্ষণিকভাবে ফলপ্রসূ এবং কালজয়ী। এটি প্রত্যেককে আহ্বান জানায়—এসে স্বচক্ষে দেখতে, পর্যবেক্ষণ করতে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে এবং যাচাই করে নিতে। এটি প্রত্যেককে প্রগতির পথে চালিত করে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যায়। এটি সরাসরি পর্যবেক্ষণযোগ্য, অনুভবযোগ্য এবং প্রতিটি প্রজ্ঞাবান সত্তার দ্বারা উপলব্ধির যোগ্য...।
বুদ্ধের শিষ্যদের নিয়ে গঠিত এই ‘আর্য সংঘ’ সম্প্রদায়টি নিখুঁত প্রশিক্ষণে রত; তারা সঠিক পথে, সত্য পথে, শুভ পথে এবং ঋজু পথে প্রশিক্ষণ প্রদান করে! তাই এই আট প্রকারের ব্যক্তি—যাদের ‘চার আর্য-যুগল’ বলা হয়—তাঁরাই দান, আত্মত্যাগ, নৈবেদ্য, আতিথেয়তা এবং যুক্তকর অভিবাদনের যোগ্য। কারণ, বুদ্ধের আর্য শিষ্যদের এই সংঘ-সম্প্রদায়টি হলো এই জগতে—এবং এই জগতের কল্যাণের তরে—এক অদ্বিতীয় ও চির-অতুলনীয় পুণ্যক্ষেত্র; যা সম্মান, শ্রদ্ধা, সহায়তা এবং সুরক্ষার পরম আধার...।
প্রতিদিন এই স্তুতিবাক্যটি আবৃত্তি করলে চিত্তে শ্রদ্ধা, আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ় প্রত্যয়ের বিকাশ ঘটে—যা আধ্যাত্মিক অগ্রগতির প্রাথমিক শক্তি হিসেবে কাজ করে। গভীর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা বা বিশ্বাসই পরিপক্ক হয়ে ‘বোঝার বা উপলব্ধির শক্তিতে’ রূপান্তরিত হয়! ঠিক যেমন একটি ক্ষুর বা ব্লেডকে আয়নার ওপর ঘষে আরও ধারালো করে তোলা যায়... শ্রদ্ধা বা বিশ্বাস সর্বদা হৃদয়ের গভীর থেকেই উৎসারিত হয়!
No comments:
Post a Comment