অহিংসা ও সহনশীলতা সকল প্রাণীকে রক্ষা করে
সুমনপাল ভিক্ষু
বুদ্ধ ছিলেন সহনশীলতা ও অহিংসার এক মহান বন্ধু,
আমি পদহীন প্রাণীদের বন্ধু,
আমি দ্বিপদ প্রাণীদের বন্ধু;
আমি চতুষ্পদ প্রাণীদের বন্ধু,
আমি বহু-পদ প্রাণীদের বন্ধু।
পদহীন প্রাণীরা যেন আমার কোনো ক্ষতি না করে, দ্বিপদ প্রাণীরা যেন আমার কোনো ক্ষতি না করে, চতুষ্পদ প্রাণীরা যেন আমার কোনো ক্ষতি না করে, এবং বহু-পদ প্রাণীরাও যেন আমার কোনো ক্ষতি না করে। অঙ্গুত্তর নিকায়, ২, ৭২। বাঘ, সিংহ, চিতা ও ভাল্লুকদের মাঝে আমি অরণ্যে বসবাস করতাম। কেউ আমাকে দেখে ভীত হতো না, আমিও কাউকে ভয় পেতাম না। এমন সর্বজনীন মৈত্রীর ভাবনায় উদ্ভাসিত হয়ে আমি অরণ্যজীবন উপভোগ করতাম। মধুর, নিস্তব্ধ নির্জনতার মাঝে খুঁজে পেতাম পরম প্রশান্তি। সুবর্ণ-সাম জাতক, ৫৪০।
আমি সকলের বন্ধু ও সহায়,
আমি সকল জীবের প্রতি সহানুভূতিশীল। আমি এমন এক চিত্তের সাধনা করি যা প্রেমে পরিপূর্ণ, এবং যা সর্বদা অহিংসায় আনন্দ খুঁজে পায়। আমি আমার চিত্তকে প্রফুল্ল করি, আনন্দে পূর্ণ করি, একে করি অটল ও অবিচল। আমি সেই দিব্য চিত্তাবস্থার সাধনা করি, যা সাধারণ
মানুষের আয়ত্তের বাইরে।থেরগাথা ৬৪৮-৯। এভাবেই যিনি দিন-রাত সর্বদা অহিংসায় আনন্দ খুঁজে পান, এবং সকল জীবের প্রতি প্রেম বিতরণ করেন, তিনি কারো সাথেই শত্রুতা খুঁজে পান না। সংযুক্ত নিকায় ১, ২০৮।
যিনি নিজে আঘাত করেন না কিংবা
অন্যকে দিয়ে আঘাত করান না; যিনি নিজে চুরি করেন না কিংবা
অন্যকে দিয়ে চুরি করান না—সকল জীবের প্রতি প্রেম বিতরণকারী
সেই ব্যক্তি কারো সাথেই শত্রুতা খুঁজে পান না। ইতিবুত্তক, ২২। যেমন একজন মা নিজের জীবনের বিনিময়েও তাঁর একমাত্র সন্তানকে রক্ষা করেন—তেমনি একজন সাধকের উচিত সকল সংবেদনশীল, জীবন্ত ও শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণকারী প্রাণীর প্রতি সীমাহীন, হ্যাঁ—সর্বজনীন মৈত্রীর সাধনা করা।
যিনি প্রকৃত স্নেহপূর্ণ চিত্তের অধিকারী, তিনি যেন এই সমগ্র জগতের প্রতি করুণা অনুভব করেন— ঊর্ধ্বে, অধেঃ এবং চতুর্দিকে— সীমাহীন ও সর্বত্র পরিব্যাপ্তভাবে। যিনি হিংসা পরিত্যাগ করেছেন, যিনি কোনো জীবেরই ক্ষতি করেন না, যিনি নিজে হত্যা করেন না কিংবা হত্যা করান না- এমনই এক শান্ত ও সৌম্য ব্যক্তিই হলেন 'আর্য' বা পুণ্যবান মহাপুরুষ। ধম্মপদ, ৪০৫। যিনি শত্রুদের মাঝেও মৈত্রীপরায়ণ, হিংস্রদের মাঝেও অহিংস, লোভীদের মাঝেও আসক্তিহীন— তিনিই প্রকৃত ‘আর্য’ বা মহৎ ব্যক্তি। ধম্মপদ ৪০৬। যিনি জীবজন্তুর ক্ষতি করেন, তিনি ‘আর্য’ নন। তাঁকেই ‘আর্য’ বলা হয়, যিনি সকল জীবের প্রতি শান্ত ও দয়ালু। ধম্মপদ, ২৭০। সহনশীলতাই হলো সর্বোত্তম সাধনা। ধৈর্যই হলো শ্রেষ্ঠ অনুশীলন। সকল বুদ্ধের এটাই বাণী। ধম্মপদ, ১৮৪। কেউ যেন কাউকে প্রতারণা না করে, বা কোথাও কাউকে অবজ্ঞা না করে; ক্রোধ কিংবা বিরক্তির বশেও যেন কেউ অপরের অমঙ্গল কামনা না করে। খুদ্দকপাঠ, ৯। যিনি সন্তুষ্টচিত্ত, যিনি ধম্ম শ্রবণ করেছেন ও তা স্পষ্টভাবে অনুধাবন করেন—তাঁর কাছে নির্জনতাই পরম সুখ। এই জগতে মৈত্রীপূর্ণ অহিংসাই প্রকৃত সুখ; সকল জীবের প্রতি অহিংস আচরণই পরম সুখ। উদান, ১০।
No comments:
Post a Comment