Tuesday, April 7, 2026

মধুর, নির্জন ও প্রশান্ত—এই হলো অরণ্য-সুখ

 মধুর, নির্জন ও প্রশান্ত—এই হলো অরণ্য-সুখ

সুমনপাল ভিক্ষু

অরণ্যবাসী ভিক্ষু অরণ্যের অভিজ্ঞতার প্রতি গভীর মনোযোগ নিবদ্ধ করেন। এর ফলে তিনি একাগ্রতার আরও গভীর, অথচ পূর্বে অনাস্বাদিত স্তরে প্রবেশ করেন। এভাবে লোকালয় থেকে দূরে অবস্থান করার ফলে, কোনো তুচ্ছ বা অনুপযুক্ত বিষয় দ্বারা তাঁর চিত্ত বিক্ষিপ্ত হয় না। তিনি সমস্ত উদ্বেগ ও মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকেন। এভাবেই তিনি জীবনের প্রতি আসক্তিকেও জয় করেন! এর সুবাদে তিনি নির্জনতার এই পরমানন্দ এবং সেই নিস্তব্ধ মানসিক শান্তির স্বাদ আস্বাদন করেন। তিনি নির্জনে ও লোকচক্ষুর আড়ালে বসবাস করেন। এই নিস্তব্ধ ও নির্জন আবাসস্থলগুলো তাঁর চিত্তকে আনন্দিত করে। যে ভিক্ষু অরণ্যে একাকী বাস করতে পারেন, তিনিও এই মধুর ও প্রশান্তিময় আনন্দ লাভ করতে পারেন— যার মহিমান্বিত স্বাদ, এমনকি কোনো স্বর্গীয় উদ্যানে প্রাপ্ত রাজকীয় সুখের চেয়েও শ্রেষ্ঠ... এভাবেই অরণ্যবাসের এই সূক্ষ্ম ও স্বচ্ছন্দ প্রশান্তিতে স্থিরচিত্ত কোনো প্রাজ্ঞ ব্যক্তিকে অরণ্য আনন্দিত করে তোলে। সূত্র: মধ্যম নিকায ১২১, অঙ্গুত্তর নিকায, ৩য় খণ্ড ৩৪৩, বিসুদ্ধিমগ্গ, ১ম খণ্ড,৭৩।
একাকীত্বে নির্জনতা (বিবেক-সুখ)
যিনি একাকী বসেন, হাঁটেন এবং শয়ন করেন; যিনি নিজের চিত্তকে সংযত করার সাধনায় অত্যন্ত উৎসাহের সাথে ব্রতী থাকেন—তিনি অরণ্যে পরম আনন্দ খুঁজে পান... ধম্মপদ, গাথা ৩০৫। সেই মহাপুরুষ যিনি মাত্র তিনটি চীবর পরিধান করে থাকেন; যিনি কৃচ্ছ্রসাধনায় ক্ষীণতনু হয়ে পড়েছেন এবং তাঁর শরীরের শিরাগুলো দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে; যিনি অরণ্যে একাকী ধ্যানে মগ্ন থাকেন—তিনিই প্রকৃত 'পবিত্র পুরুষ' বা সাধু... ধম্মপদ গাথা, ৩৯৫।
[06/04, 10:37] Sugatānugatadāsa: *মুখবন্ধ:*  
এই কবিতাটি বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ *'ধম্মপদ'*-এর *"চিত্ত বগ্গ"* থেকে আহৃত চল্লিশ নম্বর গাথার মূল ভাব অবলম্বনে রচিত। পরম শ্রদ্ধেয় *ভিক্ষু সুমন পাল ভান্তেজির* প্রেরিত শুভেচ্ছা-বার্তা থেকে প্রাপ্ত সেই শাশ্বত দর্শনের নির্যাস এখানে কাব্যিক রূপ পেয়েছে। মানুষের নশ্বর শরীর এবং অবিনশ্বর প্রজ্ঞার মধ্যকার দ্বন্দ্ব ও উত্তরণই এই রচনার মূল উপজীব্য।

No comments:

Post a Comment