Saturday, December 3, 2022

 প্রখ্যাত জ্ঞানতাপস ও আচার্য, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ধীমান শিক্ষাবিদ ও লেখক, বহুভাষাবিদ মাননীয় অধ্যাপক সুনীতিকুমার পাঠকের প্রতি অভিবাদন ও শ্রদ্ধার্ঘ্য

হে জ্ঞানতাপস,

ধরণীর ধূলিতলে কতো মানব সন্তান আসে, কতো চলে যায়। এই যাওয়া আসার খেলায় আপনি স্মরণীয় হয়েই রইবেন বহু যুগ যুগ। কেননা, আপনার জ্ঞানসাধনা এতই প্রভূত ও প্রোজ্জ্বল যে আপনার জ্ঞানদ্যুতি ছড়িয়ে রয়েছে  বাংলা, তিব্বত, পালি, সংস্কৃত প্রভৃতি ভাষার রচনায়। আপনার জ্ঞানস্পৃহা আপনার এই নবুতিপর বয়সেও আমাদের প্রেরণা যুগিয়ে চলেছে যে বয়স একটি সংখ্যামাত্র। শাস্ত্রে বলা আছে "নহি জ্ঞানেন সদৃশাং পবিত্রমিহ বিদ্যতে"। আপনি মহার্ঘ জ্ঞানভূমির মহাতপস্বী। আপনার জ্ঞানসাধনার তরুতলে আমরা আপনার চরণে আমার বিনম্র অঞ্জলি নিবেদন করি।

হে সত্যদ্রষ্টা ঋষি,

আপনার সততা ও ত্যাগ, নির্লিপ্ততা ও ঔদার্য, নিষ্ঠা ও সারল্য, স্নেহ ও গাম্ভীর্যতা একজন প্রকৃত ঋষিরই জঙ্গম অবয়ব তুল্য। আপনি সত্যকেই দেখিয়ে চলেছেন, সত্যেরই জয়গান গেয়ে যাচ্ছেন, সত্যেরই উদ্ভাসনে নিজের মনের রত্নখনি খনন করে চলেছেন অবিরত। "সত্যমেব জয়তে"- সত্যেরই জয় হয়, আপনি সত্যান্বেষী ঋষি। তাই জয়গাথা তব গেয়ে চলি মোরা দীনজনে।

হে ধীমান আচার্য,

আপনি আমাদের প্রাচার্য-আচার্য। আপনার শিক্ষা বিভায় কতো কতো শিক্ষানবীশ যে শিক্ষার আলোর ঝরণাধারায় স্নাত হয়েছে তা তুলনাতীত। আপনার করুণা স্পর্শে বহু বহু ছাত্রছাত্রী আজ শিক্ষা বিলিয়ে চলেছেন দেশে-দেশান্তরে। আপনার শিক্ষাদ্যুতিতে কতো কতো মানবের মনের কালিমা মুছে জ্ঞান-জোছ্নায় সিক্ত-পরিসিক্ত হয়ে চলেছে তার ইয়ত্তা নেই! শিক্ষাচার্য রূপে আপনি একমেবাদ্বিতীয়ম্। আপনাকে নিরন্তর বন্দনা।

আপনার নীরোগ ও আরো দীর্ঘায়ু জীবন কামনা করি।

নিবেদক-

বোধি-নিধি সোস্যাল ওয়েলফেয়ার কালচারাল এসোসিয়েশন'র

সদস্যবৃন্দ 

 নিববান(সং নির্বাণ)

'নি' উপসর্গের সঙ্গে  'বাণ' শব্দের সমাসে নির্বাণ পদ সিদ্ধ হয়। ' বাণ' তৃষ্ণারই নামান্তর। 'নি' উপসর্গ তৃষ্ণার অভাব বা অতিক্রম অর্থ প্রকাশ করছে। অর্থাৎ যা উপলব্দি করলে জন্মজন্মান্তরে কৃত তৃষ্ণাবন্ধন ছিন্ন করা যায় এবং রাগ-দ্বেষ-মোহাদি নির্বাপিত করতে সমর্থ, তারই নাম নির্বাণ। ভারতীয় দর্শনে ও অধ্যাত্ম সাধনায় নির্বাণ বৌদ্ধধর্মের শ্রেষ্ঠ দান। ভারতীয় তথা বিশ্বের দার্শনিক চিন্তা এতদিন যেখানে ব্যাহত ছিল,গৌতম বুদ্ধের তপস্যার উৎকর্ষতা ও অপ্রতিহত গতি সে সীমা অতিক্রম করলো। বুদ্ধ আবিষ্কার করলেন - জীব কার্যকারণ প্রবাহের স্থূল প্রতীক এবং জীবের চরম পরিণতি নির্বাণে। দুঃখ জীবের চিরসঙ্গী। তাই দুঃখের নিরবশেষ অবস্থা বা চরম দুঃখমুক্তিই জীব যুগে যুগে কামনা করে এসেছে।ভারতের মুনি-ঋষিগণ যুগে যুগে এই দুঃখমুক্তির জন্যই তপস্যা করে এসেছেন। কিন্তু কেউ সম্পূর্ণরূপে সফলকাম হননি। বুদ্ধ সফল হয়েছেন নিজের চেষ্টার দ্বারা, কঠোর তপস্যার দ্বারা। আজ আড়াই হাজার বছরেরও অধিক কাল যাবত বিশ্বের দার্শনিকগণ বুদ্ধের এই আবিষ্কারকে মেনে নিয়েছেন, স্বীকৃতি দিয়েছেন। বুদ্বের এই আবিষ্কারের সমন্তরাল বা উচ্চতর কোন আবিষ্কারের কথা অদ্যাবধি শোনা যায় নি। তাই নির্বাণধর্ম  আবিষ্কারের জন্য বুদ্ধকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম মহাপুরুষরূপে এবং অধ্যাত্মবিদ্যার শ্রেষ্ঠতম শাস্তারূপে পরিগণিত করা যায়। নির্বাণ লোকোত্তর একটিঅবস্থা। তাই লৌকিক ভাষা দিয়ে নির্বাণকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। বুদ্ধের সমস্ত বাণী যুক্তিসম্মত। কিন্তু তার আবিষ্কৃত নির্বাণ অতর্কাবচর। তর্ক দ্বারা ইহার উপলব্ধি সম্ভব নয়। যেহেতু তর্ক অপ্রতিষ্ঠ, একজন তার্কিকের সীমাবদ্ধ সঙ্কল্প অপরে খণ্ডন করে। নির্বাণ অকারণসম্ভূত।  তাই নির্বাণের  উৎপত্তিও নেই বিনাশও নেই। নির্বাণ কালাতীত বলে ইহা ধ্রুব। ধ্রুব বলেই  ইহা শুভ এবং ধ্রুব ও শুভ বলেই নির্বাণ হচ্ছে 'পরমং সুখং'।
পূর্বেই উক্ত হয়েছে - নির্বাণ হচ্ছে রাগ-দ্বেষ-মোহের চরম নিবৃত্তির অবস্থা। বুদ্ধ বলেছেন - এই জগত প্রজ্বলিত। রাগাগ্নির দ্বারা প্রজ্বলিত,দ্বেষাগ্নির দ্বারা প্রজ্বলিত, মোহাগ্নির দ্বারা প্রজ্বলিত। জন্ম-জরা-ব্যাধি-মৃত্যু-দুঃখ-দৌর্মনস্য-শোক-উপায়াস -অগ্নির দ্বারা প্রজ্বলিত।'                    নির্বাণকে জাগতিক ভাষা দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয় বলে একথা মনে করা ভুল যে, নির্বান হচ্ছে শূণ্যাবস্থা,উচ্ছেদাবস্থা। একথা কারো বলা উচিত নয় যে, 'আলো' নেই, যেহেতু অন্ধ তা দেখতে পায় না। বিদ্যুদ্বাহী তারে আগুন দেখা যায় না বলে একথা মনে করা ভুল যে বিদ্যুতে আগুন নেই। নির্বাণও  ঠিক তদ্রূপ। নির্বাণ েমন একটি ধর্ম বা অবস্থা যা অজাত,অনুৎপন্ন, অসংস্কৃত এবং নিরাকার। তাই নির্বাণ হচ্ছে ধ্রুব, শুভ এবং সুখ।
নির্বাণ বলে কোন স্থান নেই, স্বর্গ নেই। এই দেহের উপরই নির্বাণ নির্ভরশীল।ইহা এমন একটি অবস্থা যা সর্বজন অনুভূতি গোচর। এই লোকোত্তর অবস্থাকে ইহ জন্মেই প্রত্যক্ষ করা যায়। উপলব্দি করা যায়। বৌদ্ধধর্ম একথা বলে না যে মৃত্যুর পরেি নির্বাণ লাভ করা যায়। এখানেই বৌদ্ধ নির্বাণ এবং অন্যান্য ধর্মের স্বর্গ-মোক্ষলাভের (যা কেবল মৃত্যুর পর লাভ করা যায়)বা পরমেশ্বরের সঙ্গে একাত্মভূত হওয়ার মধ্যে পার্থক্য। বুদ্ধ গয়ার বোধিবৃক্ষমূলে বুদ্ধত্বলাভ  করে এই পঞ্চস্কন্ধময় দেহ বর্তমান থাকলেও নির্বাণসুখ উপলব্ধি করেছিলেন। বৌদ্ধদের ভাষায় বুদ্ধের এই নির্বাণের নাম সোপাদিশেষ নির্বাণ। আর কুশীনগরে যখন বুদ্ধ এই পঞ্চস্কন্ধময় দেহ ত্যাগ করে চলে যান তখন তাঁর  ঐ নির্বাণের নাম অনুপাদিশেষ নির্বাণ। দুই প্রকার নির্বাণের অবস্থাই অনির্বচনীয়।

ড. দীপক কুমার বড়ুয়া এক সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য

 ড. দীপক কুমার বড়ুয়া এক সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য

(শোক ও স্মরণাঞ্জলী)

সুমনপাল ভিক্ষু

"কোন খসে পড়া তারা
প্রাণে এসে খুলে দিল
বেদনার অশ্রুধারা"

পৃথিবীতে এমন কিছু ক্ষণজন্মা ও বিদগ্ধজন আছেন যাঁরা আপন গতিপথ থেকে এতটুকু বিচ্যুত হন না। ড. দীপক কুমার বড়ুয়া তার জ্বলন্ত স্বাক্ষর। ড. দীপক কুমার বড়ুয়া ১৯৩৮ সালে ১৪ এপ্রিল অধুনা বাংলাদেশের চট্টগ্রামের হাসিম তাঁর পিতা কোলকাতায় অবস্থান করতেন। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাঁর মা সন্তানকে। পুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রবীন্দ্রলাল বড়ুয়া মাতা নিরুপমা দেবী।  কর্মসূত্রের তাঁর পিতা কোলকাতায় অবস্থান করতেন। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাঁর মা সন্তানকে নিয়ে আসেন কোলকাতায়। কোলকাতায় কে.জি স্কুলে পড়াশুনোর গোড়াপত্তন হয়। বউবাজার হাইস্কুল থেকে ১৯৫৪ সালে কৃতিত্বের সহিত মাধ্যমিক পাশ করেন। ১৯৫৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন (ইন্টারমিডিয়েট)। ১৯৫৮ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ হতে পালিতে বি.এ. অনার্স পাশ করেন। ১৯৬০ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম.এ. পাশ করেন। ১৯৬২ সালে লাইব্রেরী সায়েন্স পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা লাভ করেন ও স্বর্ণপদকসহ পি.আর.এস সম্মান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাউন্ট গোল্ড মেডেল লাভ করেন। ১৯৬১-৬২ সালে গবেষণার জন্য কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পি.এইচ.ডি. ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল “An Anlytical Studies of Four Nikayas”। কীর্তিমান জীবনের অধিকারী ড. দীপক কুমার বড়ুয়া প্রথম কর্মময় জীবন শুরু করেন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি লাইব্রেরী এবং ইউনেসকো ইনফরমেশন সেন্টারের দায়িত্ব ছাড়াও দর্শন ও সংস্কৃতি বিভাগে প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পালি বিভাগে স্থায়ী প্রভাষক পদে যোগদান করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি রিডার এবং ১৯৭৯ সালে পালি বিভাগে ফুলটাইম প্রফেসর এবং বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালে কলাঅনুষদের ডিন (অধ্যক্ষ) নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে নব নালন্দা মহাবিহারের ডাইরেক্টর হিসেবে যোগদান করেন। ২০০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মাইনরিটি কমিশনের সদস্য নির্বাচিত হন।

ড. বড়ুয়ার সুনাম ও কৃতিত্ব দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে, তাঁকে ২০০২-২০০৩ সালে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় পালি ও বুড্ডিষ্ট স্টাডিজের ভিজিটিং অধ্যাপক নিযুক্ত করেন। তিনি এশিয়াটিক সোসাইটি ও বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের আজীবন সদস্য। তিনি একাডেমী কমপারেটিভ রিলিজিয়ন অব ইণ্ডিয়ার জীবন সদস্য। ২০০৩ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে ভূষিত হন। মহাবোধি সোসাইটি অব ইণ্ডিয়ার জীবন সদস্য ও লণ্ডন পালি টেক্সট সোসাইটির ভারতীয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রিপাবলিক অব কোরিয়ার এশিয়া ইনফরমেশন লাইব্রেরী এণ্ড সোসাইটির এডভাইজার এডিটোরিয়াল বোর্ডের সদস্য। তিনি ইণ্ডো-ইরানিকা কোয়াটার্লি অর্গেন অব দি ইরান সোসাইটির রেসিডেন্ট এডিটর এবং বুদ্ধগয়া ইন্টারন্যাশনাল মেডিটেশন সেন্টার এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বৌদ্ধ ধর্মাঙ্কুর সভার সভাপতিও ছিলেন বহুদিন। তাঁর গবেষণা কর্মের অবদানও কম নয়। এযাবৎ বাংলা-ইংরেজী মিলে তাঁর ২০টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

১। Anagarika Dharmapala : A study, 1964.
2। Exhibition on Folklore Catalogue : Exhibition of Books and offer Materials of folklore and Allied Subjects এই গ্রন্থটি যৌথভাবে সম্পাদন করেন ড. বড়ুয়া ও শঙ্কর সেন মহাশয়, 1966.
3। V. iharas in Ancient India: Survey of Buddhist Monasteries,1969.
4। : Jogajjyoti A Buddha Jayanti Annual Sovinour, 1970.
5। An Analytical Study of Four Nikayas, 1971.
6। Buddha Gaya temples its History, 1975.
7। Art of Central Asia., 1981.
8। Ruparupa Vibhaga of Achariya Buddhadatta Thera: Pali Text with English translation and notes, edited and translated into English, 1995.
9।BuddhaduttaKrita Ruparupa vibhaga: Mul Pali Grantha Banganubad O Nirvacita Sabda - Tika Saha, edited and Trans- lated in to Bengali, 1997.
10। Applied Buddhism Studies in the Gospal of Buddha from modern perspectives, 2005.
11।Academic library System: Master of Library and information science (MLIS), 2006.
12। Buddha Dharma O Darsan, 2008.
13। Adhunikata O Uttaradhunikatar Preksite phalita Buddha Dharma,2009.
14। New Vajrayana Mystic Songs From Nepal: A study on the Nava Caryapada with texts and translations, 2010
15। Self Cultivation without self : In Perspective of Applied Buddhism, along with Ankur Barua, 2010.
16। Applied Buddhism in Modern Mathematics : Unrecognised Buddhist Contribution. along with Ankur Barua, 2010.
17। Applied Buddhism in Modern Science : Episode I, along with Ankur Barua, 2010.
18। Buddhism Flourishes in Hong Kong. An Account of Buddhist History of Hong Kong, along with Ankur Barua, 2010.
19। Foundation of our true understanding : Through Applied Buddhism, along with Ankur Barua, 2010.
20। Glorification of the Buddha and the Bodhisatta in Theravada Buddhism, along with Ankur Barua, 2010.

তিনি বহু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে ও সেমিনারে যোগদান করেন। ড. বড়ুয়া বাঙালী বৌদ্ধ সমাজের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র । ভারতীয় রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. দীপক বড়ুয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও পুণ্যদান। তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং তাঁর প্রতিও অশেষ কৃতজ্ঞতা ও নির্বাণ সুখ কামনা করি।

 তুমিই সৃষ্টির উৎস

তুমিই স্থিতি
তুমিই আনন্দ 
তুমিই প্রেরণা
তুমিই প্রকাশ 
তুমিই অস্তিত্ব
তুমিই প্রাণ
তুমিই আলো
তুমিই ছায়া
তুমিই আশা
তুমিই আদি অনন্ত 
তুমিই সব.....
তোমাতে আমি আমার
তোমাতে আমার আলো
তোমাতে আমার শ্বাস 
তোমাতে আমার সৃষ্টি স্থিতি বিলয়,
তোমাতেই আমার সব।
তবে কেন তুমি অসময়

যা কিছু হারায় আর যা না হারায় সব যদি দি ই সপিআ 
তোমায় তবে নাই ক্ষয় সবই জেগে রয় তব মহা মহিমায়.

"হে মুহূর্ত তুমি কোথাও যেও না, 
পারলে সারা জীবন থেমে থেকো।"

ফুঁ দিয়ে প্রদীপ নেভানো যায়, 
কিন্তু ধূপকাটি নেভানো যায় না,
যারা সুগন্ধ ছড়ায়, 
কিন্তু সহজে নেভেনা।

স্বপ্ন দেখাতে উড়তে
স্বপ্ন দেখিয়েছিলে জাগতে আর জাগাতে
মরিচিকা আর লাল নীল স্বপ্নের জগতের
পায়ে বেড়ি বেঁধে দিয়েছিলে
সেই কবেকার কোন কালে
শপথ করিয়েছিলে,
কথা দিয়েছিলাম, 
পালন করেছিলাম অক্ষরে অক্ষরে
এতটুকু কালিমায়িত হতে দেইনি
তোমার অভিমানে 
তোমার শৌর্যবীর্যে কেউ তর্জনী দেখাক,
সেটা তুমি হতে দাওনি কস্মিনকালে।
রেখেছি আমিও,
তুমি রেখে গেলে শুধু শব্দবন্ধ গুটি।
কিন্ত কি পেলে শব্দবন্ধ দিয়ে
পেয়েছো সারাটা জীবন অম্লমধুর লাঞ্চনা।

কেউ কথা রাখে না জানি,
কিন্ত তুমি তো তাদের  কাতারে নও, 
একটু সন্তর্পণে এগোতে পারতে,
একটু সমঝে চললে কি এমন ভুল হোত
এতই তাড়া ছিল কি
তুমি তো কতই না কিছু বলতে 
একটু তো বলতে পারতে,
বলেছিলে সব ঠিক আছে
কথা দিয়েছিলে কিন্ত রাখোনি 
এতো অভিমানী তো তুমি নও, ছিলে না।
তবে কেন না বলে হটাৎ..
আমার কতোই না কথা বলার ছিল 
কিন্ত......
মুঠোফোন কিংবা খোলা চিঠি
নিরুদ্দেশ পথের ক্লান্তির অবসাদে
পৌঁছাতে চাইবে কি তারাও,
তারাও রাখবে না কথা, সব ঠিক আছে বলে।
যেমনটা তুমি রাখোনি।

Monday, August 29, 2022

একবিংশ শতকের উত্তর-আধুনিক সংস্কৃতি এবং খাদ্যাভাষের পরিবর্তন

 সুমনপাল ভিক্ষু

"উত্তর আধুনিকতা বলতে বোঝায় সেই অবক্ষয় বা স্বেচ্ছাচারিতা হতে উত্তরণের প্রয়াসকে, সে অবক্ষয় বা স্বেচ্ছাচারিতা দোর্দন্ড প্রতাপবাতা আধুনিকতার আন্তাকুঁড়ে জন্ম লাভ করেন।

- আকিরা কুরোসোয়া!! 

বিংশ শতকের অন্তিম লগ্নে বিশ্ব ব্যাপী ক্রমাগত অর্থনৈতিক মন্দা,  মধ্য প্রাচ্যের তেলের বাজারকে কেন্দ্র করে ক্রমাগত রাজনৈতিক অস্থিরতা, আফ্রিকা ও পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পণ্য গুলী বাজারে ব্যাপক ধস, বেকারত্ব ইত্যাদি পূঁজির বাজারে গভীর সংকট উৎপ্ন করলে পূঁজি তান্ত্রিক রাষ্টগুলি পূঁজি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে সেজ এবং উত্তর আমেরিকার বিকুত সংসকৃতি তথা ভোগ্য পন্যের বাজার উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এই সময় কালে পণ্য গুলী শে বাজার সংসকৃতির উভের হয়েছিল, তা পূঁজির অভ্যন্তরীন বিন্দের মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়েছিল। 

আমরা জানি যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে মার্কিন এবং সোভিয়েত রাশিয়া পূর্ব ইউরোপ তথা এশিয়ার বাজার গ্মেশের প্রতিযোগীতায় অবতীর্ন হলে 'বান্ডা লড়াই' এর সূত্রপাত হয়। ১৯৯০-৯১ সালে সোভিয়েত রাশিয়া উদ্যার অর্থনীতির পথ গ্রহন করলে (ভ্লাস্তনস পেরেস্ত্রোইকা) অচিরেই সোভিয়েত অর্থ নীতি ভেঙে পড়ে এবং ইউরেশিয়া ভূগ্মন্তে ১১টি স্বাধীন রাষ্ট্রের উভয়ের হয়। 

যাই হোক, এই প্রসঙ্গ সম্পর্কিত আলোচনা করার পূর্বে একটু পশ্চাৎ গামী হওয়া প্রয়োজন, নতুবা মূল বিষয়টি কে পূঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে আলোচনা করা সমভব হবে না।

বিংশ শতকের প্রথম দিকে বিখ্যাত ফরাসী দার্শনিক মিশেল ফুকো (১৯২৬ - ১৯৮৪ খ্রীঃ) এবং ড্যাক দোরিদা (১৯৩০-২০০৪খ্রীঃ) উত্তর- আধুনিকতা/পোষ্ট মর্ডানির্জম্ তত্ত্বের জন্ম দেন।

(২)

যদিও এই পোষ্ট মর্ডানিজম্ বা পোষ্ট কলোনিয়ার্লিজম বিষয় টি এখানে আলোচনা সমভব নয় তবুও বলা যায় যে এই তত্তব হতে উদার অর্থনীতি বাদের জন্ম হয়েছিল। 

১৯৯১ খ্রীঃ আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার বা আই এম এফ ভারত কে দেউর্লিয়া রাষ্ট্র ঘোষণা করলে তৎকালীন ভারত সরকারের অর্থমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংহ উদার অর্থনীতি ব্যবস্থা প্রচলন করেন। ফলে ভারতের বাজার বৈদেশিক সংস্থা গুলির নিকট উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ফলে ভারতে ১৯৯৮-২০০০ খ্রীঃ ব্যাপক ভাবে মার্কিন পূঁজির অনুপ্রবেশ ঘটতে শুরু করে। 

এই পূঁজির চুড়ান্ত অভিমূখ ছিল ভোগ্যপন্যের প্রতি। কিন্তু এই ভোগ্যপন্যের অভিমুখটি ভারত বর্ষের জনগনের বহুত্ববাদী খাদ্য এবং পোষাক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে বাধ্য করল। ফলে ভারত বর্ষের নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী হতে আভূত এক নতুন শ্রেণীর জন্ম হল। খাদের কে বলা হল 'কালচারাল বাস্টার্ভ' এই শ্রেণীর হাত ধরে ভারতের কসমোপোলিটাণ শহর গুলিতে মার্কিণী কাষ্ট কুভ এবং ভারতীয় খাদ্য সংস্কৃতির এক উভেট সংমিশ্রণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত গতিতে প্রভাব বিস্তার করার ফলে ভারতের নগরায়ণের মধ্যে ও এল এক পরিবর্তন৷ অপর দিকে পিছু হটতে লাগল লোকায়ত খাদ্য সংস্কৃতি।

উইলিয়াম কটন (১৮শতক) বহু পৃুর্বেই বলেছিলেন- "ভারতের নৈসর্গিক সম্পদ (খনি, অরণ্য ও কুষিজাত বাম্পদ) আমেরিকার অপেক্ষা ও অধিক। এখানকার বানিজ্য ও বহু বিস্তৃতি।  তথাপি ভারত অপেক্ষা অধুক দরিদ্র দেশ পৃথিবীতে আর নেই"।

তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে যে আমার কি বিশ্ব খাদ্যাভাস এবং সংস্কৃতিকে গ্রহন করব না। অথাই নিজেদের যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হব না।  উত্তর হবে, অবশ্যই তা করব কিন্তু নিজেদের সংস্কৃতি এবং খাদ্যাভাস কে বিসর্জন দিম্নে নয়। সর্বেপিরি ভারতের অর্থ নৈতিক পরিকাঠামো হতে সামন্ততন্ত্র এবং উপনিবেশ বাদ সম্পূর্ণ রূপে দৃরিভূত না হওয়ার ফলে এভ চাপিয়ে দেওয়া পশ্চিমা খাদ্যাভাস এবং সংস্কৃতি কতটা এই  সন্দেহ  থেকেই যায়। কিন্তু শহরাঞ্চলে ক্রমাগত বেড়ে ওরা কসঙ্গাপলিটান সংস্কৃতি এবং একটি জাতি ও তার সংস্কৃতিকে সবংস করার অভিপ্রায়ে অন্য ভাষা সংস্কৃতির ক্রমাগত অনুপ্রবেশ ( খাদ্যাভাস এবং আবার পখতি সহ) ও এর জন্যে দায়ী। 

বিংশ শতক হতেই ভারতীয় গণ মাধ্যম গুলিতে পরিপূর্ণ ভাবে বৈদেশিক পূঁজি ভারতীয় মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া দের মাধ্যমে বিকশিত হতে শুরু করলে একটি বিশেষ ভাষা এবং উত্তর ভারতীয় সংস্কৃতি তথা খাদ্যাভাস সম্পূর্ণ ভারতে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা শুরু হয়। কিন্তু এই পরিকল্পনাতে পশ্চিমা পূঁজি সন্দিহান হয়ে উঠলে ভারতীয় কর্পোরেট সংস্থাগুলি ভয়ানক ক্ষতির সম্মুখীন হতে থাকে। ফলে তারা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির উপযোগীতা কে উপলব্ধি করে পশ্চিমা পূঁজির সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে বাধ্য হয়। এমতাবস্থায় ভারতীয় পন্যের বাজার সম্পূর্ণ ভাবে পশ্চিমা পূঁজির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। 

 

একবিংশ শতকের প্রথম দিকে হতে ভারতীয় উচ্চবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণী মল সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাল ক্রয় বিক্রয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে যদিও তা ভারতীয় জনগনের ২৫ শতাংশ কিন্তু তবুও আন্তর্জাতিক অর্থনীতির মাপকাঠিতে সর্ববৃহৎ। কিন্তু কেন এি পরিবর্তন মুখীতা? এপ্রশ্নের সদুত্তর পেতে গেলে আমাদের মনে রাখতে হবে যে বার্গার বা নুডলস সংস্কৃতি অথবা সেই সব শেয়ালেরা (কালচারাল বাস্টার্ড) হল এমন এক সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক, যাখানে বিনোদন মাধ্যম, বিজ্ঞাপন ই হল নয়া শিক্ষাণীতি। সর্বোপরি বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি এমন শিক্ষা পদ্ধতি এই শ্রেণীর হাতে তুলে দিয়েছে যে এক্ষেত্রে 'নব্য-প্রজন্ম' তাদের মস্তিষ্ক প্রথমলতা করে বিজাতীয় শিমন-সংস্কৃতি তথা খাদ্যাভাসকে গ্রহন করেছে।

বৃহৎ পন্য মুখী অর্থনীতি এমনই চায় যে এই নব্যপ্রজন্ম এবং যারা তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলির শতকরা ৪০ শতাংশ, তারা মেন বাজার অর্থনীতির তল্পি বাহকে পরিনত হোক। অর্থাৎ এমন একটি শ্রেণী উৎপন্ন করা মাতে সেই শ্রেণী সরাসরি ভাবে দক্ষিণ পন্থী সংস্কৃতি তে অভ্যস্ত হয়। বামপন্থী লেখক সন্তোষ রানা এই বিষয় টিকে বলেছেন বিরাট বিপরীত যাত্রা।

'ডায়াসপোরা' কথাটির অর্থ হল অভিবাসী। অর্থাৎ যে সকল জনগোষ্ঠী তার আসল জন্মস্থান বা মাতৃভূমি ত্যাগ পুর্বক অম্য রাজ্যে বা দেশে বসবাস করে।

পশ্চিমবঙ্গে 'ডায়াসপোরা' সংস্কৃতির আগমন হয় ১৯ শতকে অর্থাৎ বৃটিশ শাসন কালে। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর রেলপথ, টেলিগ্রাম, সড়ক নির্মান সহ কলকারখানা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেতে থাকলে উত্তর- পশ্চিম ভারত সহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত হতে নানাবিধ ভাষাগোষ্ঠীর জনগণ কলকাতা এবং হুগলী- হাওড়া শিল্পাঞ্চল এসে বসতি স্থাপন করলে বাংলার চিরাচরিত সংস্কৃতি এবং খাদ্যাভাষ ও ধর্মাচরন পদ্ধতির পরিবর্তন হতে থাকে ভারতের স্বাধীনতার পর এই অভিবাসীর সংখ্যা উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকলে পশ্চিমবঙ্গের বানিজ্যিক শহর তথা ব্যবসা - বাণিজ্য এমন কি প্রশাসনিক পদগুলি অভিবাসীগের করায়ত্ব হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় উত্তর- পশ্চিম এবং দক্ষিণ ভারতীয় খাদ্য- পোষাক ইত্যাদি ব্যাপকতা বাঙালী সংস্কৃতিকে গ্রাস করে ফেললে উগ্র- জাতিসওবার বীজ হতে বিষবৃক্ষ, উৎপাদনের বিষয়টি ও ক্রমশ ঘনীভুত হতে থাকে। আর এই অসন্তোষ এর বাতাবরণ কে ক্রমাগত উস্কে দিয়ে চলেছে ভারতের শাসক শ্রেণী। এই বিষয়টি শুধু বাংলার ক্রেত্রে প্রযোজ্য নয় মহারাষ্ট্র, দক্ষিণ ভারত এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলের ক্রেত্রেও সমান ভাবে প্রযোজ্য।

এবার পশ্চিমবঙ্গে ডায়াসপোরা (অভিবাসী) জনসংখ্যার একটি চালচিত্র প্রদান করা হল,  যাতে বিষয়টি আরও পরিস্কার হয়।

পশ্চিমবঙ্গে অভিবাসী জনসংখ্যা (শতাংশ)।। 

উত্তর ভারতীয় ৭.১৭%

পশ্চিম ভারতীয় (গুজরাতি, মারোয়ারী, পাঞ্জাবী) ৪.০৭%

উৎকল বাসী, সিন্ত্রি এবং পার্শী ২.০১%

নেপালী এবং গোর্খালী ০.০৭%

অন্যান্য ০.০২%

এই প্রসঙ্গে প্রয়াগ শুক্লা'র একটি ক্ষুদ্র রচনা আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে (এন সি ই আর টি, হিন্দি পাঠ্যক্রম ৭শ্রেণী- 'খাদ্যাভাষের পরিবর্তিত প্রতিচ্ছবি')। 

বিগত ১০-১৫ বছরে আমাদের খাদ্যাভাসের সংস্কৃতিতে এক বিরাট পরিবর্তন এসেছে। দক্ষিণ ভারতীয় খাদ্য এবং উত্তর ভারতীয় 'ধাবা' সংস্কৃতি পূর্ব ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। 'কাষ্ট ক্ষুভ' ও চাইনিজ নুভলস্ বিতত্তাপ্রিত রাঙ্গে  ভারতের প্রতিটি শহর এবং গ্রমে বিদ্যমান।  অর্থাৎ স্থানীয় ব্যজনের সাথে অন্য প্রদেশের ব্যজ্ঞত্তন পাক ও প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিদ্যমান এবং মধ্যবিত্ত জীবনের এই ভোজন বৈচিত্র তার অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 

লেখক আরও বলেছেন যে খাদ্যাভাষের এই পরিবর্তিত সংস্কৃতি হতে সবথেকে অধিক প্রভাবিত হয়েছে নব্য প্রজন্ম, যারা লোকায়ত ব্যজ্ঞত্তনের সঙ্গে ঠিক ভাবে পরিচিত নয় ফলে অনেক স্থানীয় ব্যজ্ঞত্তন ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই বিষয়টি অবলোকন করা অত্যন্ত জরুরী যে 'স্থানীয় ব্যজ্ঞত্তন' কে যদি পুনরুদ্ধার না করা হয় তাহলে এক সময় এমন হবে যে ঐ সকল ব্যজ্ঞত্তন বড় বড় কোম্পানীর হাত ধরে প্যাকেট জাত হয়ে বাজারে উপস্থিত হবে নতুবা কালের তাড়নায় সংগ্রহ শালায় সংরক্ষিত হবে।

তিনি খেদোক্তি প্রকাশ করে বলেছেন, অনেক স্থানীয়  ব্যজ্ঞতনকে আমরা তথাকথিত আধুনিকতার কারনে ত্যাগ করেছি এবং পশ্চিমী খদ্যাভাষকে নকল করে এমন সব খাদ্য- পাণীয়কে গ্রহন করেছি যা আমাদেরে স্বাস্থ্য ইত্যাদির পক্ষে অনুকুল নয়।

এতো গেল খাদ্যাভাষ ইত্যাদি সম্পর্কিত অশনি সংকেত। এবার উত্তর আধুনিকতার গর্ভে লালিত তৃতীয় বিশ্বের একটি তথাকথিত বিকাশ থান দেশ ভারতবর্ষের নিম্ন- মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জীবন চর্চা সম্পর্কে আলোকপাত করা যাক। 

আমরা জানি যে ঔপনিবেশিক শাসনের গর্ভে লার্লিত হওয়ার ফলে ভারতবর্ষের বাজার অর্থনীতির গতিমুখ সর্বদা পন্যমুখী হয়েছে। ৭০ দশকে ভারতের সিনেমা শিল্পের হাতধরে জনগনের একাংশ মার্কিনী সংস্কৃতি (পাঙ্ক এবং ইয়াঙ্কি সংস্কৃতি) র অনুকরণ করতে শুরু করে।  ৯০ দশকের শেষ দিকে ভারতীয় গণমাধ্যম গুলি সম্পূর্ণ ভাবে মার্কিনী সংস্কৃতির দালালে পরিনত হলে বিজ্ঞাপন সংস্কৃতির প্রালন হতে থাকে। এমতবস্থায় ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্যিক শহর ও শহরতলি গুলিতে পন্যমুখী বাজার সংস্কৃতির প্রাদুর্ভাব ঘটলে ইউরোপীয় / মার্কিনী পোশাক শিল্পের এক বিরাট সমভাবনা ময় পরিস্থিতি তৈরী হয়। ২০-২১ শতকের মধ্যে এই বাজার ভারতীয় বস্ত্র শিল্পকে সম্পূর্ণ ভাবে বির্নষ্ট করে ইউরোপীয় পণ্য আমাদানী তথা ধারণের প্রতি মনোনিবেশ করতে থাকে। বর্তমানে তাঁতবস্ত্র শিল্পের অভিমুখ পতন্মোথী প্রায় এবং এই শিল্পের পুনরুজ্জীবিতের সম্ভাবনা সএই বললেই চলে। কিন্তু তবুও এদেশে কসমেটিক জাত পণ্য এবং উত্তর- আধুনিক পোশাক- পরিচ্ছদ' এর বাজার ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।

বর্তমানে এই শ্রেণীর ধারক- বাহক তথা পৃষ্ঠপোষক যে শ্রেণী, তাদের কে পঙ্ক বা ইয়াংঙ্কি সংস্কৃতির প্রেতাত্না বলা হয়। কারণ এই শ্রেণী সামন্ত সংস্কৃতি এবং উপনির্বেশবাদী সংস্কৃতির পরিমন্ডল দ্বারা সৃষ্ট হয়েছে। এদের নিকট মানবিক তথা সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয় টি সোনার পাথর বাটি মাত্র। এক্ষেত্রে কারনের প্রশ্নটি নৈব- নৈব চ।  কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন :

"একবার মাটির দিকে তাকাও

একবার মানুষের দিকে°°°°°°।"

কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে কবির এই আহবান বর্তমানে সম্পূর্ণ ভাবে অন্তঃস্বার শূন্যে পর্থবসিত হয়েছে, কারণ নৈব নৈব চ।